ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
সবুজ পত্র
সর্বশেষ
সাংসদের মুখে ‘চার খলিফার’ গল্প, নাঙ্গলকোটে সুশাসন নাকি ক্ষমতার নতুন বলয়?

সাংসদের মুখে ‘চার খলিফার’ গল্প, নাঙ্গলকোটে সুশাসন নাকি ক্ষমতার নতুন বলয়?

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলমের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে নাঙ্গলকোটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। যুবদলের চার নেতাকে কেন্দ্র করে ‘চার খলিফা’ প্রসঙ্গটি এখন আর নিছক হাস্যরসের বিষয় নয়; এটি দলীয় শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক আনুগত্য, ক্ষমতার ব্যবহার এবং জনপ্রতিনিধির জবাবদিহি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।সাংসদের বক্তব্যের সারকথা হলো—জাতীয় নির্বাচনের আগে বহিষ্কৃত যুবদলের চার নেতা তাঁর নির্দেশিত বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁদের ভূমিকা ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা প্রকাশ্যে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংসদ সদস্যের পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।প্রশ্ন হচ্ছে, একজন সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য কি কেবল আত্মপক্ষ সমর্থন, নাকি এর মধ্যে স্থানীয় রাজনীতির ক্ষমতাকাঠামো সম্পর্কে আরও গভীর কোনো বার্তা রয়েছে?প্রশ্ন উঠছে, খলিফা’ পরিচয়, নাকি ক্ষমতার প্রতীক?‘খলিফা’ শব্দটি নিজে কোনো নেতিবাচক শব্দ নয়। কিন্তু রাজনৈতিক পরিসরে যখন কোনো জনপ্রতিনিধির ঘনিষ্ঠ চারজনকে ‘চার খলিফা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তখন বিষয়টি নিছক শব্দের অর্থে সীমাবদ্ধ থাকে না। মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—তাঁরা কি কেবল সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন, নাকি স্থানীয় রাজনীতিতে বিশেষ প্রভাব ও ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছেন?একজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মীদের ঘনিষ্ঠতা থাকা অস্বাভাবিক নয়। বরং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিশ্বস্ত কর্মীদের ভূমিকা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ঘনিষ্ঠতা যদি জনমনে বিশেষ ক্ষমতাবলয় তৈরির ধারণা সৃষ্টি করে, তাহলে বিষয়টি পরিষ্কার করা সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরই দায়িত্ব।কারণ, জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত আস্থাভাজন হওয়া আর জনগণের কাছে জবাবদিহির বাইরে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী হওয়া এক বিষয় নয়।এদিকে বহিষ্কৃত নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ।কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কৃত বলে আলোচিত নেতারা কীভাবে এবং কোন সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন?যদি তাঁদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, তাহলে দলীয় গঠনতন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক বিধিবিধানের আলোকে তাঁদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। সংসদ সদস্য হিসেবে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করা এক বিষয়, আর দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সাংগঠনিক বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।কেউ অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন—এটি তাঁর রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি পাওয়ার কারণ হতে পারে। কিন্তু অতীতের অবদান কি বর্তমানের সব সিদ্ধান্তের বৈধতা নিশ্চিত করে? নিশ্চয়ই নয়। রাজনীতিতে অবদান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দলীয় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।সুতরাং, সংশ্লিষ্ট নেতাদের দায়িত্বের পরিধি, তাঁদের নিয়োগের ভিত্তি এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।দুর্নীতির প্রমাণ দিন, কিন্তু জবাবদিহি কার?সাংসদ বলেছেন, চার নেতার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে প্রকাশ্যে মতামত দিতে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়—এ কথা অবশ্যই সমর্থনযোগ্য।কিন্তু জবাবদিহির দায়িত্ব কি শুধু নাগরিকের? জনগণ তথ্য দেবে, অভিযোগ তুলবে—তারপর জনপ্রতিনিধি ব্যবস্থা নেবেন। এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।যাঁরা সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের দায়িত্বের পরিধি কী? তাঁরা কোন কর্তৃত্বে কাজ করছেন? তাঁদের কর্মকাণ্ড তদারকির ব্যবস্থা কী? অভিযোগ উঠলে তদন্ত করবেন কে? ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত হবে?এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও রয়েছে। সুশাসন কোনো ব্যক্তির সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল ব্যবস্থা নয়; এটি নিয়ম, প্রক্রিয়া ও জবাবদিহির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।আর ‘নাকে খত দিয়ে এমপি পদ ছেড়ে দেওয়ার’ মতো কঠোর প্রতিশ্রুতি জনমনে তাৎক্ষণিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে, কিন্তু বাস্তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা।সাংসদের বক্তব্যে ফেসবুকে সমালোচনা না করার বিষয়ে সতর্কবার্তাও রয়েছে। তিনি ‘ফেসবুকে সুড়সুড়ি’ দিয়ে সমালোচনার করা থেকে.বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেন এবং আরো বলেন, কেউ খলিফা’ হতে চাইলে স্বাগত জানাবেন। বক্তব্যের এই অংশটি নিয়েও প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, মিথ্যা অভিযোগ কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্রহনন অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত। কিন্তু তাই বলে সব সমালোচনাকে ‘সুড়সুড়ি’ কিংবা সুশাসন ব্যাহত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যায় না।জনপ্রতিনিধির কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। সমালোচনা গ্রহণ করা, তথ্যের ভিত্তিতে জবাব দেওয়া এবং ভুল হলে সংশোধন করা—এসবই গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের পরিচয়।তবে নাগরিকের সমালোচনারও দায়িত্বশীলতা থাকা প্রয়োজন। অভিযোগ হলে তার পক্ষে তথ্য-প্রমাণ থাকা উচিত; গুজবকে সত্য হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। একইভাবে, সমালোচনাকারীকে ভয় দেখানো বা তাঁর বিরুদ্ধে অস্পষ্ট শাস্তির ইঙ্গিত দেওয়ার পরিবর্তে আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখাই শ্রেয়।নাঙ্গলকোটের সাধারণ মানুষ কি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে বেশি আলোচনা করবে, নাকি কারা সাংসদের ঘনিষ্ঠ এবং কারা তাঁর নির্দেশে কোন দায়িত্ব পালন করছেন—তা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে?‘চার খলিফা’ নিয়ে আলোচনা যদি জনমনে এমন ধারণা তৈরি করে যে রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রে কয়েকজন বিশেষ ব্যক্তি রয়েছেন, তাহলে সেই ধারণা দূর করার দায়িত্ব সাংসদেরই। তিনি চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিচয়, কাজের পরিধি এবং জবাবদিহির কাঠামো স্পষ্ট করতে পারেন। তাতে অযথা বিতর্ক কমবে, জনগণের মাঝে খলিফা আতংক কমে বরংআস্থা বাড়বে।একজন সংসদ সদস্যের শক্তি তাঁর চারপাশের অনুসারীর সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। তাঁর প্রকৃত শক্তি নির্ধারিত হয় জনগণের আস্থা, স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং জনস্বার্থে কাজ করার সক্ষমতা দিয়ে।এখন নাঙ্গলকোটের মানুষ ‘চার খলিফা’র গল্প শুনে শুধু হাস্যরস খুঁজছে, নাকি এর আড়ালে ক্ষমতার নতুন বলয় তৈরির আশঙ্কা দেখছে—সেটি বোঝার জন্য প্রয়োজন বাস্তব কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন। কাউকে অপরাধী বলা যেমন প্রমাণ ছাড়া অনুচিত, তেমনি কোনো জনপ্রতিনিধির ঘনিষ্ঠ বলেই কাউকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।সাংসদ মোবাশ্বের আলম যদি সত্যিই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ হন, তাহলে তাঁর সামনে সুযোগ রয়েছে—কথার পাশাপাশি কাজের মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার প্রমাণ করার। অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান, দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা এবং সমালোচনার প্রতি সহনশীলতা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।কারণ, জনগণ কোনো ‘খলিফা’ চায় না, যারা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকবে। জনগণ চায় এমন নেতৃত্ব, যেখানে ক্ষমতা থাকবে দায়িত্বের সঙ্গে, রাজনৈতিক আনুগত্য থাকবে দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে, আর জনপ্রতিনিধিত্ব থাকবে জনগণের কাছে জবাবদিহির অধীনে।নাঙ্গলকোটে ‘চার খলিফা’র গল্প যতই মুখরোচক হোক, শেষ পর্যন্ত মানুষ গল্পের চেয়ে কাজের হিসাবই দেখতে চাইবে।
১৮ ঘন্টা আগে

লাকসামের ৮ ইউনিয়নে জনসমর্থন পেতে মাঠে ছুটছেন নেতারা প্রচারপত্র বিলি

লাকসামের ৮ ইউনিয়নে জনসমর্থন পেতে মাঠে ছুটছেন নেতারা প্রচারপত্র বিলি

বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পথে কুমিল্লা-৬ মনোনয়ন প্রত্যাশী হাজী ইয়াছিন!

বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পথে কুমিল্লা-৬ মনোনয়ন প্রত্যাশী হাজী ইয়াছিন!

নাঙ্গলকোটে প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

নাঙ্গলকোটে প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

বিএনপি কুমিল্লা জেলা কমিটিতে ডুকতে মরিয়া দুদুকের আসামী আওয়ামীপন্থী জাফর সাদেক

বিএনপি কুমিল্লা জেলা কমিটিতে ডুকতে মরিয়া দুদুকের আসামী আওয়ামীপন্থী জাফর সাদেক

নিখোঁজের ২২ দিনেও সন্ধান মেলেনি নাঙ্গলকোটের প্রবাসীর স্ত্রী ফারজানার

নিখোঁজের ২২ দিনেও সন্ধান মেলেনি নাঙ্গলকোটের প্রবাসীর স্ত্রী ফারজানার

ঢালুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অহিদুর রহমান অহিদ

ঢালুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অহিদুর রহমান অহিদ

কুমিল্লায় লক্কর-ঝক্কর পরিবহনের দখলেই শহরের প্রধান সড়কগুলো

কুমিল্লায় লক্কর-ঝক্কর পরিবহনের দখলেই শহরের প্রধান সড়কগুলো

নাঙ্গলকোটে ২৭বেসরকারি হাসপিটাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনিয়মের অভিযোগ, ৯টির লাইসেন্স-নিবন্ধন নবায়ন নেই

নাঙ্গলকোটে ২৭বেসরকারি হাসপিটাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনিয়মের অভিযোগ, ৯টির লাইসেন্স-নিবন্ধন নবায়ন নেই

শহীদ মুহাম্মদ শাহজাহান হত্যার বিচার চায় জামায়াতে-ছাত্র শিবির

শহীদ মুহাম্মদ শাহজাহান হত্যার বিচার চায় জামায়াতে-ছাত্র শিবির

নাঙ্গলকোটের পেরিয়া ইউপি নির্বাচনে জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

নাঙ্গলকোটের পেরিয়া ইউপি নির্বাচনে জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

বাগমারায় ‘ট্রোল’ পোস্টার ভাইরাল, রয়েছে খাইরুল দেওয়ান ও ভাইরাল সিদ্দিক

বাগমারায় ‘ট্রোল’ পোস্টার ভাইরাল, রয়েছে খাইরুল দেওয়ান ও ভাইরাল সিদ্দিক

 সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত নাঙ্গলকোটে হাফেজ মাওলানা নাসরুল্লাহ‘র পরিবারের শোক যেন থামছে না।

সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত নাঙ্গলকোটে হাফেজ মাওলানা নাসরুল্লাহ‘র পরিবারের শোক যেন থামছে না।

লাকসামের দৌলতগঞ্জ গাজিমুড়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর বাধা রইলনা এডভোকেট বদিউল আলম সুজনের

লাকসামের দৌলতগঞ্জ গাজিমুড়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর বাধা রইলনা এডভোকেট বদিউল আলম সুজনের

মনোহরগঞ্জের হাসনাবাদ বাজার গলি দখল করে দোকান নির্মাণ, বিপাকে ক্রেতা-বিক্রেতারা

মনোহরগঞ্জের হাসনাবাদ বাজার গলি দখল করে দোকান নির্মাণ, বিপাকে ক্রেতা-বিক্রেতারা

মনোহরগঞ্জে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ এক হিজড়াকে গ্রেপ্তার

মনোহরগঞ্জে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ এক হিজড়াকে গ্রেপ্তার

সাংসদের মুখে ‘চার খলিফার’ গল্প, নাঙ্গলকোটে সুশাসন নাকি ক্ষমতার নতুন বলয়?

সাংসদের মুখে ‘চার খলিফার’ গল্প, নাঙ্গলকোটে সুশাসন নাকি ক্ষমতার নতুন বলয়?

শোকে স্তব্ধ নাঙ্গলকোটের মাওলানা নাসরুল্লাহ

শোকে স্তব্ধ নাঙ্গলকোটের মাওলানা নাসরুল্লাহ

কুমিল্লায় ভেজাল আইসক্রীমের ব্যাবসা শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে

কুমিল্লায় ভেজাল আইসক্রীমের ব্যাবসা শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে

মনোহরগঞ্জে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সুমনের গণসংযোগ, দক্ষিণ ঝলমকে ‘মডেল ইউনিয়ন’ গড়ার প্রতিশ্রুতি

মনোহরগঞ্জে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সুমনের গণসংযোগ, দক্ষিণ ঝলমকে ‘মডেল ইউনিয়ন’ গড়ার প্রতিশ্রুতি

সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই ও আধুনিক সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বারোপ

সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই ও আধুনিক সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বারোপ

এলপিজির কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তোলপাড়

দেশের বাজারে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কয়েকটি কোম্পানি অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানো হলে শনিবার সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দেশে এলপিজি মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, দেশে চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি আমদানি করা হলেও বাজারে সংকট কেন তৈরি হয়েছে এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কেন—লোটাব নেতাদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়।তবে এলপিজি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লোটাব নেতারা। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে। বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।বৈঠক শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার আড়াই হাজারে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট তীব্র হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার কোথাও কোথাও আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি আমদানির ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কিছু অপারেটর এলপিজি মজুত করে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি কোম্পানি আগেভাগে তাদের ট্যাংকারে এলপিজি মজুত করেছে। আবার কিছু জাহাজ ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বঙ্গোপসাগরের সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।দাম বাড়ানোর চাপ?বৈঠকে উপস্থিত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অপারেটররা রোববার থেকে এলপিজির দাম এক ধাপে বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান দামে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।ওই ব্যক্তি জানান, লোটাব নেতারা জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেছেন—বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তাদের চাহিদা অনুযায়ী দাম বাড়াচ্ছে না।মজুতের অভিযোগ অস্বীকারএলপিজি মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ এলপিজি কোনো মজুত করেনি। বরং সেপ্টেম্বরে আগের তুলনায় কম এলপিজি আমদানি করা হয়েছে, যার তথ্য এনবিআরের রেকর্ডেও রয়েছে।বাজারে সংকট কবে কাটতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ফ্রেশ এলপিজি আরও বেশি আমদানির চেষ্টা করছে।একইভাবে এলপিজি মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওমেরা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। তিনি বলেন, ওমেরাসহ কয়েকটি কোম্পানি এলপিজি মজুত করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও বিষয়টি সত্য নয়। বাজারের সংকট কাটাতে সরবরাহ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।বাজারের ৬৮ শতাংশ চার কোম্পানির দখলেগোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি মাসে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি ব্যবহার হয়। এর প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি কোম্পানিগুলো আমদানি করে। দেশে প্রায় ২৯টি এলপিজি কোম্পানি সক্রিয় থাকলেও বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ১২ থেকে ১৪টি কোম্পানি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজারের প্রায় ৬৮ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করে চারটি কোম্পানি—ওমেরা পেট্রোলিয়াম, পেট্রোমেক্স, মেঘনা ও যমুনা স্পেসটেক। এছাড়া বিএম এনার্জি ৮ শতাংশ, ইউনাইটেড আয়গ্যাজ ৭ শতাংশ, ডেল্টা ৪ শতাংশ এবং জেএমআই ও প্রিমিয়াম এলপিজি প্রায় ৩ শতাংশ করে সরবরাহ করে।বিইআরসি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রায় একই পরিমাণ এলপিজি দেশে এসেছে।এলপিজি বিক্রির হিসাব চেয়েছে বিইআরসিবাজারে চলমান সংকটের কারণ খতিয়ে দেখতে ১০ থেকে ১২টি কোম্পানির কাছে সেপ্টেম্বর মাসের দৈনিক এলপিজি বিক্রির হিসাব চেয়েছে বিইআরসি।কমিশনের সচিব নজরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে সেপ্টেম্বরের দৈনিক বিক্রির তথ্য দিতে বলা হয়েছে। শনিবার চিঠি দেওয়া হলেও রোববারের মধ্যে এসব তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আজ ঘোষণা হতে পারে নতুন দামনিয়ম অনুযায়ী, আজ রোববার অক্টোবর মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে বিইআরসির।এনবিআর থেকে এলপিজি আমদানিসংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে জ্বালানি বিভাগ ও বিইআরসি। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এলপিজি আমদানিতে প্রতি টনে প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ ডলার প্রিমিয়াম খরচ হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরামকোর কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি)ও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম নির্ধারণে এই সিপি প্রাইস গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, আমদানি ব্যয়, স্থানীয় সরবরাহ ও বাজারে মজুত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অক্টোবরের এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণে কাজ করছে বিইআরসি।

এলপিজির কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তোলপাড়
২২ অক্টোবর ২০২৫, ০২:৫৩ পিএম
বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনকে আপনি সমর্থন করেন?

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনকে আপনি সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন