কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ১০ নম্বর জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দামুরপাড় গ্রামে সরকারি খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ অবস্থার প্রতিবাদে খালটি দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে সরকারি খাল দখল করে রাখায় গ্রামবাসী দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি দ্রুত খালটি উদ্ধার করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান
আরেক বাসিন্দা আব্বাস আলী অভিযোগ করেন, অতীতে প্রভাব খাটিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি খাল দখল করেছেন। তার দাবি, বর্তমানে সিদ্দিকুর রহমান, আবুল কাসেম গং, সোলেমান, শহিদুর রহমান ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ওই জায়গা ভোগদখলে রয়েছেন।
স্থানীয় মাহবুবুল হক, দুলাল, মকবুল আহমেদ (চেরা মাঝি) ও সেলিম আহমেদ বলেন, সরকারি খাল দখল করে বসতঘর নির্মাণের ফলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে এবং কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তারা খালটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দামুরপাড় গ্রামের পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে একটি প্রাচীন সরকারি নালা/খাল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ খালের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া হতো এবং প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদন সম্ভব হতো। কিন্তু সম্প্রতি খালের ওপর মাটি ভরাট করে ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করায় পানি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্ষাকালে পাশের সোন্দাইল গ্রামসহ আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। এতে কৃষিজমি, ফসল ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। আবেদনে সংশ্লিষ্ট খালের সাবেক দাগ নম্বর ৪৬৬ এবং হাল দাগ নম্বর ৬৩৩ উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খাল থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করা এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বিষয়ে অভিযোগে নাম উল্লেখ থাকা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে নাঙ্গলকোট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ১০ নম্বর জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দামুরপাড় গ্রামে সরকারি খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ অবস্থার প্রতিবাদে খালটি দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে সরকারি খাল দখল করে রাখায় গ্রামবাসী দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি দ্রুত খালটি উদ্ধার করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান
আরেক বাসিন্দা আব্বাস আলী অভিযোগ করেন, অতীতে প্রভাব খাটিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি খাল দখল করেছেন। তার দাবি, বর্তমানে সিদ্দিকুর রহমান, আবুল কাসেম গং, সোলেমান, শহিদুর রহমান ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ওই জায়গা ভোগদখলে রয়েছেন।
স্থানীয় মাহবুবুল হক, দুলাল, মকবুল আহমেদ (চেরা মাঝি) ও সেলিম আহমেদ বলেন, সরকারি খাল দখল করে বসতঘর নির্মাণের ফলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে এবং কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তারা খালটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দামুরপাড় গ্রামের পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে একটি প্রাচীন সরকারি নালা/খাল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ খালের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া হতো এবং প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদন সম্ভব হতো। কিন্তু সম্প্রতি খালের ওপর মাটি ভরাট করে ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করায় পানি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্ষাকালে পাশের সোন্দাইল গ্রামসহ আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। এতে কৃষিজমি, ফসল ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। আবেদনে সংশ্লিষ্ট খালের সাবেক দাগ নম্বর ৪৬৬ এবং হাল দাগ নম্বর ৬৩৩ উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খাল থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করা এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বিষয়ে অভিযোগে নাম উল্লেখ থাকা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে নাঙ্গলকোট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন