ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সবুজ পত্র

নাঙ্গলকোটে সহকারী প্রধান শিক্ষককে বাদ দিয়ে শারীরিক শিক্ষকের হাতে প্রধানের দায়িত্ব



নাঙ্গলকোটে সহকারী প্রধান শিক্ষককে বাদ দিয়ে শারীরিক শিক্ষকের হাতে প্রধানের দায়িত্ব

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হওয়ার পর সহকারী প্রধান শিক্ষককে বাদ দিয়ে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে দায়িত্ব না দেওয়ার ঘটনাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরজনিত কারণে পদ শূন্য হওয়ার পর সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. শাহ আলম। তাঁকে দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে চিঠি দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুছ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের স্মারক নং-উমাশিঅ/নাঙ্গল/কুম/২০২৬-৪২৭-এর ওই চিঠিতে বলা হয়, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে সহকারী প্রধান শিক্ষক কর্মরত থাকা অবস্থায় অন্য একজন সহকারী শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারির পরিপত্রের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি।

পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা স্নাতক (পাস) কলেজে প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের পদ শূন্য হলে সহকারী প্রধান শিক্ষক বা উপাধ্যক্ষ কর্মরত থাকলে তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো শিক্ষককে ওই পদে দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। সহকারী প্রধান শিক্ষক বা উপাধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকলেই কেবল কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম সহকারী শিক্ষক বা সহকারী অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার চিঠিতে আরও বলা হয়, পরিপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দায়িত্ব দেওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এতে শ্রেণি কার্যক্রম ও পাঠদানে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখার স্বার্থে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুসরণ করে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলমকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার অর্পণের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কুমিল্লার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমের দাবি, ২০২৪ সালে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য হওয়ার পর এলাকাবাসীর মতামতের ভিত্তিতে আমাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম বলেন, আমি বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমাকে বাদ দিয়ে সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিজের সম্মান রক্ষা ও দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সামছুউদ্দিন স্বপন বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে চিঠি পেয়েছি। আমার জানামতে, এভাবে দায়িত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহ আলম লিখিত আবেদন করেছেন। তাঁর অধিকার খর্ব হয়েছে। তাঁকে দায়িত্ব না দিয়ে সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সভাপতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


নাঙ্গলকোটে সহকারী প্রধান শিক্ষককে বাদ দিয়ে শারীরিক শিক্ষকের হাতে প্রধানের দায়িত্ব

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হওয়ার পর সহকারী প্রধান শিক্ষককে বাদ দিয়ে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে দায়িত্ব না দেওয়ার ঘটনাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরজনিত কারণে পদ শূন্য হওয়ার পর সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. শাহ আলম। তাঁকে দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে চিঠি দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুছ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের স্মারক নং-উমাশিঅ/নাঙ্গল/কুম/২০২৬-৪২৭-এর ওই চিঠিতে বলা হয়, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে সহকারী প্রধান শিক্ষক কর্মরত থাকা অবস্থায় অন্য একজন সহকারী শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারির পরিপত্রের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি।

পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা স্নাতক (পাস) কলেজে প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের পদ শূন্য হলে সহকারী প্রধান শিক্ষক বা উপাধ্যক্ষ কর্মরত থাকলে তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো শিক্ষককে ওই পদে দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। সহকারী প্রধান শিক্ষক বা উপাধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকলেই কেবল কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম সহকারী শিক্ষক বা সহকারী অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার চিঠিতে আরও বলা হয়, পরিপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দায়িত্ব দেওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এতে শ্রেণি কার্যক্রম ও পাঠদানে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখার স্বার্থে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুসরণ করে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলমকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার অর্পণের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কুমিল্লার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমের দাবি, ২০২৪ সালে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য হওয়ার পর এলাকাবাসীর মতামতের ভিত্তিতে আমাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম বলেন, আমি বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমাকে বাদ দিয়ে সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিজের সম্মান রক্ষা ও দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সামছুউদ্দিন স্বপন বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে চিঠি পেয়েছি। আমার জানামতে, এভাবে দায়িত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহ আলম লিখিত আবেদন করেছেন। তাঁর অধিকার খর্ব হয়েছে। তাঁকে দায়িত্ব না দিয়ে সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সভাপতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত