ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সবুজ পত্র

নাঙ্গলকোটে জমি বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধ, প্রবাসীকে পরিবারসহ গুমের হুমকির অভিযোগ



নাঙ্গলকোটে জমি বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধ, প্রবাসীকে পরিবারসহ গুমের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জমি বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক দুবাইপ্রবাসী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দামকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মামুন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এবং পাওনা সাড়ে ৯ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ায় তাঁকে এবং তাঁর সন্তানদের গুম করে ফেলার অভিযোগ ও করেন মোহাম্মদ উল্লাহ নামের ওই প্রবাসী। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

মোহাম্মদ উল্লাহ উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন পরিকোট গ্রামের মোক্তার হোসেন বেপারীর ছেলে।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের কাদবা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী রাজিয়া বেগমের কাছে পাশের লাকসাম পৌরসভা পূর্ব ফতেপুর মৌজায় একই ইউপির মোহাম্মদ উল্লাহর মালিকানাধীন ৮.১৭ শতক জমির মধ্য থেকে ৪.৯ শতক জমি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।২০১৭ সালে জমি বিক্রির সময় রাজিয়া বেগম নগদ ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি ৫ লাখ টাকার বিপরীতে তাঁর স্বাক্ষর করা একটি চেক এবং নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প মোহাম্মদ উল্লাহর কাছে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাকি টাকা পরিশোধের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার কথা হয়। ২০২১ সালে রাজিয়া বেগম বাকি টাকা পরিশোধ না করে জমিটি অন্যত্র বিক্রির উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে মোহাম্মদ উল্লাহর কাছে জমিটি বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি টাকা না থাকার কথা জানান। তখন ধীরে ধীরে টাকা পরিশোধ করার কথা বলা হয়। পরে তিনি রাজিয়া বেগমকে আরও সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেন বলে দাবি করেন। এরপর জীবিকার তাগিদে মোহাম্মদ উল্লাহ দুবাই চলে যান। বিদেশে যাওয়ার পর রাজিয়া বেগম আর বাকি টাকা পরিশোধ করেননি কিংবা জমির বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতাও হয়নি। ২০২৪ সালে দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, ওই জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে এবং তাঁর পাওনা সাড়ে ৯ লাখ টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো শুরু হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজিয়া বেগমের ছেলে শাওন ও তাঁর মামাতো ভাই মামুন তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়েছেন। এমনকি তাঁর সন্তানদের গুম করে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মোহাম্মদ উল্লাহ প্রশাসনের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা এবং পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে মোহাম্মদ উল্লাহ'র অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজিয়া বেগম বলেন, মোহাম্মদ উল্লাহ আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এক জায়গা দেখিয়ে অন্য জায়গা বিক্রি করেছেন। সে আমার কাছে কোনো টাকা পাবে না।

অভিযুক্ত মামুনও হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি তাঁকে কেন হুমকি দেব? তাঁর সঙ্গে আমার ফোনে কোনো কথাই হয়নি।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


নাঙ্গলকোটে জমি বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধ, প্রবাসীকে পরিবারসহ গুমের হুমকির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জমি বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক দুবাইপ্রবাসী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দামকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মামুন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এবং পাওনা সাড়ে ৯ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ায় তাঁকে এবং তাঁর সন্তানদের গুম করে ফেলার অভিযোগ ও করেন মোহাম্মদ উল্লাহ নামের ওই প্রবাসী। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

মোহাম্মদ উল্লাহ উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন পরিকোট গ্রামের মোক্তার হোসেন বেপারীর ছেলে।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের কাদবা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী রাজিয়া বেগমের কাছে পাশের লাকসাম পৌরসভা পূর্ব ফতেপুর মৌজায় একই ইউপির মোহাম্মদ উল্লাহর মালিকানাধীন ৮.১৭ শতক জমির মধ্য থেকে ৪.৯ শতক জমি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।২০১৭ সালে জমি বিক্রির সময় রাজিয়া বেগম নগদ ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি ৫ লাখ টাকার বিপরীতে তাঁর স্বাক্ষর করা একটি চেক এবং নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প মোহাম্মদ উল্লাহর কাছে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাকি টাকা পরিশোধের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার কথা হয়। ২০২১ সালে রাজিয়া বেগম বাকি টাকা পরিশোধ না করে জমিটি অন্যত্র বিক্রির উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে মোহাম্মদ উল্লাহর কাছে জমিটি বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি টাকা না থাকার কথা জানান। তখন ধীরে ধীরে টাকা পরিশোধ করার কথা বলা হয়। পরে তিনি রাজিয়া বেগমকে আরও সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেন বলে দাবি করেন। এরপর জীবিকার তাগিদে মোহাম্মদ উল্লাহ দুবাই চলে যান। বিদেশে যাওয়ার পর রাজিয়া বেগম আর বাকি টাকা পরিশোধ করেননি কিংবা জমির বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতাও হয়নি। ২০২৪ সালে দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, ওই জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে এবং তাঁর পাওনা সাড়ে ৯ লাখ টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো শুরু হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজিয়া বেগমের ছেলে শাওন ও তাঁর মামাতো ভাই মামুন তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়েছেন। এমনকি তাঁর সন্তানদের গুম করে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মোহাম্মদ উল্লাহ প্রশাসনের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা এবং পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে মোহাম্মদ উল্লাহ'র অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজিয়া বেগম বলেন, মোহাম্মদ উল্লাহ আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এক জায়গা দেখিয়ে অন্য জায়গা বিক্রি করেছেন। সে আমার কাছে কোনো টাকা পাবে না।

অভিযুক্ত মামুনও হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি তাঁকে কেন হুমকি দেব? তাঁর সঙ্গে আমার ফোনে কোনো কথাই হয়নি।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত