ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সবুজ পত্র

নাঙ্গলকোটে বছরে ৩৬ লাখ টাকা বেতন-ভাতা, ১৪ শিক্ষকেও পাস করাতে পারেননি ৬ শিক্ষার্থীকে



নাঙ্গলকোটে বছরে ৩৬ লাখ টাকা বেতন-ভাতা, ১৪ শিক্ষকেও পাস করাতে পারেননি ৬ শিক্ষার্থীকে

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আইটপাড়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছয় শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি। এর আগে ২০২৫ সালেও এ প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নয় শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছিল।টানা দুই বছর আলিম পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা বছরে সরকারি বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৩৬ লাখ টাকা পান। এমন ফলাফলে মাদ্রাসাটির পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার মান ও শিক্ষক-প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় আইটপাড়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর আগে ২০২৫ সালের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নয় শিক্ষার্থীরও একই পরিণতি হয়। পরপর দুই বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফলের দায় এড়াতে পারে না প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকসংখ্যার বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, নিয়মিত উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক পাঠদান এবং শিক্ষার মান যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পরপর দুই বছর শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অমনোযোগী। এ ছাড়া ছাত্রীদের অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে। মাদ্রাসায় আইসিটি শিক্ষক না থাকায়ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা আইসিটি ও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, বিয়ে এবং আইসিটি শিক্ষক না থাকার মতো বিষয়গুলো ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে আগেও শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ভাইস প্রিন্সিপালকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপরও ফলাফলের এমন বিপর্যয় অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আবারও চিঠি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। 

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, আলিম মাদ্রাসায় সর্বনিম্ন ২০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ছয়জন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


নাঙ্গলকোটে বছরে ৩৬ লাখ টাকা বেতন-ভাতা, ১৪ শিক্ষকেও পাস করাতে পারেননি ৬ শিক্ষার্থীকে

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আইটপাড়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছয় শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি। এর আগে ২০২৫ সালেও এ প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নয় শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছিল।টানা দুই বছর আলিম পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা বছরে সরকারি বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৩৬ লাখ টাকা পান। এমন ফলাফলে মাদ্রাসাটির পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার মান ও শিক্ষক-প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় আইটপাড়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর আগে ২০২৫ সালের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নয় শিক্ষার্থীরও একই পরিণতি হয়। পরপর দুই বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফলের দায় এড়াতে পারে না প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকসংখ্যার বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, নিয়মিত উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক পাঠদান এবং শিক্ষার মান যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পরপর দুই বছর শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অমনোযোগী। এ ছাড়া ছাত্রীদের অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে। মাদ্রাসায় আইসিটি শিক্ষক না থাকায়ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা আইসিটি ও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, বিয়ে এবং আইসিটি শিক্ষক না থাকার মতো বিষয়গুলো ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে আগেও শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ভাইস প্রিন্সিপালকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপরও ফলাফলের এমন বিপর্যয় অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আবারও চিঠি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। 

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, আলিম মাদ্রাসায় সর্বনিম্ন ২০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ছয়জন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত