ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
সবুজ পত্র

লাশের অপেক্ষায় পরিবার

সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত নাঙ্গলকোটে হাফেজ মাওলানা নাসরুল্লাহ‘র পরিবারের শোক যেন থামছে না।



 সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত নাঙ্গলকোটে হাফেজ মাওলানা নাসরুল্লাহ‘র পরিবারের শোক যেন থামছে না।

পবিত্র ওমরাহ হজ পালন করতে গিয়ে সৌদিআরবের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মিসাইল ক্ষেপনাস্ত্রের হামলায় নাঙ্গলকোটের নিহত হাফেজ মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরের (৩৭) পরিবারে শোকের মাতম যেন থামছে না। রোববার বিকেল ৪টায় (১১ অক্টোবর ) নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে এসে পৌঁছে। এর আগে শনিবার দুপুরে (১০অক্টোবর) সৌদি আরবের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মিসাইল হামলায় পর থেকে তার খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের মাঝে উদ্যোগ-উৎকন্ঠার মধ্যে রোববার বিকেলে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর আসে। নিহত নাসরুল্লাহ উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের ওলামা বাড়ির হাফেজ মোহাম্মদ উল্লাহর তৃতীয় ছেলে। তার ৮ বছর বয়সী ও চার বছর বয়সী দুই ছেলে এবং ছয় বছর বয়সী এক কণ্যা সন্তান রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাসরুল্লাহর বড় ভাই মাওলানা আহসান উল্ল্যাহর সাথে যোগাযোগ রাখছেন বলে তিনি জানান। মাওলানা আহসান উল্ল্যাহ বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি আমার ভাই নাসরুল্লাহর লাশ দেশে আমার বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করি। এসময় তারা জানান, এখনও সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। লাশ কখন দেশে আনা হবে।


জানা যায়, শনিবার ভোরে (১০ অক্টোবর) ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মুফতি মাওলানা নাসরুল্লাহ বদর ঢাকার কামরাঙ্গীরচর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালক হিসেবে মাদ্রাসার শিক্ষকসহ ৪৫ জনের কাফেলা নিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্য সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তাদের বিমানটি রিয়াদ বিমানবন্দরে ট্রানজিট ছিল। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বিমানটি অবতরণ করে। ওইসব দুপুর আড়াইটার দিকে জেদ্দায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বোডিং পাসের জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে তারা লাইনে দাঁড়ায়। হঠাৎ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এসময় সামনে থাকায় গুরুত্বর আহত হন মুফতি মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরসহ আরো অনেকে। রোববার বিকেলে (১১ অক্টোবর ) সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাসরুল্লাহর মৃত্যু হয়।

জানা যায়, গত দশ বছর পুর্বে মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদর ঢাকার কামরাঙ্গীরচর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলূম মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। পাঁচ বছর ধরে পরিবার নিয়ে কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসার পাশে বসাবাস করে আসছেন। তিনি ছুটিতে মাদ্রাসা বন্ধের সময় নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া বদরপুর নিজ গ্রামে পিতা-মাতাকে দেখতে আসতেন। তার মৃত্যুতে পিতা-মাতা, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও ভাইসহ আত্নীয় স্বজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দেওয়া পোস্টগুলো থেকে জানা যায়, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিমানে চেপে স্বপ্নের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। বিমানে বসেই তিনি ইহরাম পরিহিত ছবি শেয়ার করে অনুভূতি ব্যক্ত করেছিলেন। রিয়াদ বিমানবন্দরে নিরাপদে পৌঁছানোর পর ফেসবুকে একটি পোস্টে আলহামদুলিল্লাহ্ জানিয়ে সফর যেন নির্বিঘ্ন হয়, তার জন্য দোয়া চেয়েছিলেন।

নাসরুল্লাহর ভাই কুয়েত প্রবাসী মাওলানা আহসান উল্ল্যাহ বদর কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ভাই তাদের মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী, বাবুর্চি ও দারোয়ানসহ ৪৫ জনের কাফেলা নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্য সৌদি এয়ারলাইনস করে সৌদিআরবে রওনা করে। রিয়াদে তাদের ট্রানজিট ছিল। জেদ্দায় যাওয়ার জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে বোডিং পাস করে দাঁড়ানো অবস্থায় রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের মিসাইল ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় আমার ভাইসহ অনেকে মারা গেছে।

শনিবার (১০অক্টোবর) রাত থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এসময় সৌদিআরবের বিভিন্ন হাসপাতালে তার খোঁজ নেই। রোববার বিকেল ৪টায় ঢাকার লালবাগের আল মক্কা ট্রাভেলস এজেন্সির মালিক বাংলাদেশ দুতাবাসের মাধ্যমে আমাকে আমার ভাইয়ের ডেথ সার্টিফিকেট প্রেরণ করেন। তার ডেথ সার্টিফিকেট হাতে পাওয়ার পর আমরা তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হই। আমার ভাই আল্লাহ‘র জিম্মায় চলে গেছে। তার মনে অনেক সাধনা ছিল সে আল্লাহর ঘর জেয়ারত এবং তওয়াফ করবে। সে ইহরাম পরা অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেছে। তার তিনটি এতিম সন্তান রয়েছে। তার লাশ দ্রুত দেশে প্রেরণসহ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সৌদি সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, সরকারিভাবে লাশ দাফনসহ পরিবারকে সবধরণের সহযোগিতা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত নাঙ্গলকোটে হাফেজ মাওলানা নাসরুল্লাহ‘র পরিবারের শোক যেন থামছে না।

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পবিত্র ওমরাহ হজ পালন করতে গিয়ে সৌদিআরবের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মিসাইল ক্ষেপনাস্ত্রের হামলায় নাঙ্গলকোটের নিহত হাফেজ মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরের (৩৭) পরিবারে শোকের মাতম যেন থামছে না। রোববার বিকেল ৪টায় (১১ অক্টোবর ) নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে এসে পৌঁছে। এর আগে শনিবার দুপুরে (১০অক্টোবর) সৌদি আরবের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মিসাইল হামলায় পর থেকে তার খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের মাঝে উদ্যোগ-উৎকন্ঠার মধ্যে রোববার বিকেলে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর আসে। নিহত নাসরুল্লাহ উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের ওলামা বাড়ির হাফেজ মোহাম্মদ উল্লাহর তৃতীয় ছেলে। তার ৮ বছর বয়সী ও চার বছর বয়সী দুই ছেলে এবং ছয় বছর বয়সী এক কণ্যা সন্তান রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাসরুল্লাহর বড় ভাই মাওলানা আহসান উল্ল্যাহর সাথে যোগাযোগ রাখছেন বলে তিনি জানান। মাওলানা আহসান উল্ল্যাহ বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি আমার ভাই নাসরুল্লাহর লাশ দেশে আমার বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করি। এসময় তারা জানান, এখনও সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। লাশ কখন দেশে আনা হবে।


জানা যায়, শনিবার ভোরে (১০ অক্টোবর) ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মুফতি মাওলানা নাসরুল্লাহ বদর ঢাকার কামরাঙ্গীরচর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালক হিসেবে মাদ্রাসার শিক্ষকসহ ৪৫ জনের কাফেলা নিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্য সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তাদের বিমানটি রিয়াদ বিমানবন্দরে ট্রানজিট ছিল। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বিমানটি অবতরণ করে। ওইসব দুপুর আড়াইটার দিকে জেদ্দায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বোডিং পাসের জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে তারা লাইনে দাঁড়ায়। হঠাৎ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এসময় সামনে থাকায় গুরুত্বর আহত হন মুফতি মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরসহ আরো অনেকে। রোববার বিকেলে (১১ অক্টোবর ) সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাসরুল্লাহর মৃত্যু হয়।

জানা যায়, গত দশ বছর পুর্বে মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদর ঢাকার কামরাঙ্গীরচর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলূম মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। পাঁচ বছর ধরে পরিবার নিয়ে কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসার পাশে বসাবাস করে আসছেন। তিনি ছুটিতে মাদ্রাসা বন্ধের সময় নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া বদরপুর নিজ গ্রামে পিতা-মাতাকে দেখতে আসতেন। তার মৃত্যুতে পিতা-মাতা, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও ভাইসহ আত্নীয় স্বজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দেওয়া পোস্টগুলো থেকে জানা যায়, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিমানে চেপে স্বপ্নের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। বিমানে বসেই তিনি ইহরাম পরিহিত ছবি শেয়ার করে অনুভূতি ব্যক্ত করেছিলেন। রিয়াদ বিমানবন্দরে নিরাপদে পৌঁছানোর পর ফেসবুকে একটি পোস্টে আলহামদুলিল্লাহ্ জানিয়ে সফর যেন নির্বিঘ্ন হয়, তার জন্য দোয়া চেয়েছিলেন।

নাসরুল্লাহর ভাই কুয়েত প্রবাসী মাওলানা আহসান উল্ল্যাহ বদর কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ভাই তাদের মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী, বাবুর্চি ও দারোয়ানসহ ৪৫ জনের কাফেলা নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্য সৌদি এয়ারলাইনস করে সৌদিআরবে রওনা করে। রিয়াদে তাদের ট্রানজিট ছিল। জেদ্দায় যাওয়ার জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে বোডিং পাস করে দাঁড়ানো অবস্থায় রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের মিসাইল ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় আমার ভাইসহ অনেকে মারা গেছে।

শনিবার (১০অক্টোবর) রাত থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এসময় সৌদিআরবের বিভিন্ন হাসপাতালে তার খোঁজ নেই। রোববার বিকেল ৪টায় ঢাকার লালবাগের আল মক্কা ট্রাভেলস এজেন্সির মালিক বাংলাদেশ দুতাবাসের মাধ্যমে আমাকে আমার ভাইয়ের ডেথ সার্টিফিকেট প্রেরণ করেন। তার ডেথ সার্টিফিকেট হাতে পাওয়ার পর আমরা তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হই। আমার ভাই আল্লাহ‘র জিম্মায় চলে গেছে। তার মনে অনেক সাধনা ছিল সে আল্লাহর ঘর জেয়ারত এবং তওয়াফ করবে। সে ইহরাম পরা অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেছে। তার তিনটি এতিম সন্তান রয়েছে। তার লাশ দ্রুত দেশে প্রেরণসহ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সৌদি সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, সরকারিভাবে লাশ দাফনসহ পরিবারকে সবধরণের সহযোগিতা করা হবে।


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত