কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপি কোনো ব্যক্তির পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আগামী ৫৪ মাসের জন্য দল ও জনগণের দেওয়া দায়িত্ব আমার কাছে একটি আমানত মাত্র।
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লালমাই উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমি আজ যে অবস্থানে এসেছি, তা জনগণের ভালোবাসা ও ভোটের কারণেই। একসময় অন্যের অধীনে নির্বাচন করলেও আজ প্রায় ৬ লাখ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’
নিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান ও সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে মোবাশ্বের আলম বলেন, ‘আজও বিভিন্ন ধরনের স্লোগান শুনি। কিন্তু যারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে, তাদের অনেকেই আবার ব্যক্তিগতভাবে মোবাইলে কল করে ক্ষমাও চায়।’
নিজের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গর্বের সঙ্গে বলবেন- মোবাশ্বের ভূঁইয়ার কর্মী হলেও আমরা, ভাই হলেও আমরা; সমর্থক হলেও আমরা। রাজনীতি করার জন্য মোবাশ্বের ভূঁইয়ার কোনো কমিটির প্রয়োজন হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির কমিটি আমাকে মানুক কিংবা না মানুক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি রাজনীতি করি জনগণ ও নেতাকর্মীদের নিয়ে।’
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মাঠে প্রতিযোগিতা থাকবে, খেলা হবে। তবে কুমিল্লা-১০ আসনের রাজনীতিতে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না।’
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে মনির ভাইয়ের সম্পর্ক দুধ আর চিনির মতো। রাজনৈতিক মাঠে মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কে আমরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সংসদে দেখা হলে আমি তার পা ছুঁয়ে সালাম করি, কারণ তিনি আমার মুরুব্বি।’
মনিরুল হক চৌধুরীর সমর্থকদের উদ্দেশে মোবাশ্বের আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদের বিরোধের মধ্যে পড়ে কেউ যেন নিজেদের বলির পাঠা না বানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযথা উসকানি বা সুরসুরি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করবেন না।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন লালমাই উপজেলা বিএনপি নেতা মাওলানা জাকির হোসেন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম, সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান, বাগমারা উত্তর বিএনপির সভাপতি ডালিম, বিএনপি নেতা আছলাম মজুমদার, আলী আশ্রাফ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান, ভূলইন দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাফেজ বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ, ভূলইন উত্তর বিএনপি নেতা সফিকুর রহমান, পেরুল উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, জেলা যুবদলের সদস্য এনাম মজুমদার ও মানিক মিয়া, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মাস্টার শাহ আলম, ফরহাদ উদ্দিন এবং কাজী মেহেদীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বিষয় : বিএনপি

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপি কোনো ব্যক্তির পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আগামী ৫৪ মাসের জন্য দল ও জনগণের দেওয়া দায়িত্ব আমার কাছে একটি আমানত মাত্র।
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লালমাই উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমি আজ যে অবস্থানে এসেছি, তা জনগণের ভালোবাসা ও ভোটের কারণেই। একসময় অন্যের অধীনে নির্বাচন করলেও আজ প্রায় ৬ লাখ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’
নিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান ও সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে মোবাশ্বের আলম বলেন, ‘আজও বিভিন্ন ধরনের স্লোগান শুনি। কিন্তু যারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে, তাদের অনেকেই আবার ব্যক্তিগতভাবে মোবাইলে কল করে ক্ষমাও চায়।’
নিজের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গর্বের সঙ্গে বলবেন- মোবাশ্বের ভূঁইয়ার কর্মী হলেও আমরা, ভাই হলেও আমরা; সমর্থক হলেও আমরা। রাজনীতি করার জন্য মোবাশ্বের ভূঁইয়ার কোনো কমিটির প্রয়োজন হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির কমিটি আমাকে মানুক কিংবা না মানুক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি রাজনীতি করি জনগণ ও নেতাকর্মীদের নিয়ে।’
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মাঠে প্রতিযোগিতা থাকবে, খেলা হবে। তবে কুমিল্লা-১০ আসনের রাজনীতিতে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না।’
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে মনির ভাইয়ের সম্পর্ক দুধ আর চিনির মতো। রাজনৈতিক মাঠে মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কে আমরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সংসদে দেখা হলে আমি তার পা ছুঁয়ে সালাম করি, কারণ তিনি আমার মুরুব্বি।’
মনিরুল হক চৌধুরীর সমর্থকদের উদ্দেশে মোবাশ্বের আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদের বিরোধের মধ্যে পড়ে কেউ যেন নিজেদের বলির পাঠা না বানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযথা উসকানি বা সুরসুরি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করবেন না।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন লালমাই উপজেলা বিএনপি নেতা মাওলানা জাকির হোসেন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম, সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান, বাগমারা উত্তর বিএনপির সভাপতি ডালিম, বিএনপি নেতা আছলাম মজুমদার, আলী আশ্রাফ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান, ভূলইন দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাফেজ বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ, ভূলইন উত্তর বিএনপি নেতা সফিকুর রহমান, পেরুল উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, জেলা যুবদলের সদস্য এনাম মজুমদার ও মানিক মিয়া, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মাস্টার শাহ আলম, ফরহাদ উদ্দিন এবং কাজী মেহেদীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন