ঢাকা    মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সবুজ পত্র

দূর থেকে পরিত্যক্ত বাড়ি, ভেতরে চলছে স্বাস্থ্যসেবা



দূর থেকে পরিত্যক্ত বাড়ি, ভেতরে চলছে স্বাস্থ্যসেবা

দূর থেকে দেখলে মনে হবে পরিত্যক্ত কোনো বাড়ি। চারপাশে বন-জঙ্গল, ভবনের দেয়াল ও ছাদজুড়ে জরাজীর্ণতার ছাপ। কোথাও বড় ফাটল, কোথাও খসে পড়েছে পলেস্তারা। ভেতরে নেই বৈদ্যুতিক সংযোগ। পাশের আবাসিক ভবনটিও পড়ে আছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে মানুষের চিকিৎসাসেবা।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সাতবাড়ীয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির এমন বেহাল দশায় চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবনের ছাদে বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল রয়েছে। খসে পড়েছে পলেস্তারা। দেয়াল ও বিভিন্ন অংশে স্যাঁতসেঁতে ভাব। ভবনের চারপাশে গজিয়ে উঠেছে বন-জঙ্গল। ফলে পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিবেশ হয়ে উঠেছে অনিরাপদ। হালকা বৃষ্টিতেই ভবনের ভেতরে পানি উঠে যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় চিকিৎসাসেবা পরিচালনাতেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে স্থানীয় সাবদুল আলী (ছাদু মিয়া) স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের জন্য তাঁর নিজস্ব জায়গা দান করেন। পরে সেখানে ভবন নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘ প্রায় চার দশকে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে।


নাঙ্গলকোট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের জনবহুল সাতবাড়ীয়া এলাকায় সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু ভবনের বেহাল দশা ও অনিরাপদ পরিবেশের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় অনেকের পক্ষেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া কঠিন। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই চিকিৎসা নিতে আসছেন দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।

চিকিৎসা নিতে আসা খাদিজা বেগম (৪৮) বলেন, “আমি গরিব মানুষ। প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এখানেই চিকিৎসা নিতে আসতে হয়।”

সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের মেম্বার ইয়াকুব আলী বলেন, “মেম্বার হিসেবে এলাকার মানুষ তাদের সমস্যার কথা আমাকে জানান। আমিও সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত এখানে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করে দেওয়া প্রয়োজন।”

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “২০১৮ সাল থেকে এখানে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি। এখানে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। হালকা বৃষ্টিতেই পানি উঠে যায়। চারপাশে বন-জঙ্গল থাকায় অনেক সাপের বসবাস। সাপের আতঙ্কের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ জাকারিয়া বলেন, “এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানিয়েছি। তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি। নতুন ভবন করা সম্ভব না হলে আপাতত অন্য কোথাও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে অন্তত এই এলাকার মানুষের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার একটি ভালো ব্যবস্থা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দূর থেকে পরিত্যক্ত বাড়ি, ভেতরে চলছে স্বাস্থ্যসেবা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দূর থেকে দেখলে মনে হবে পরিত্যক্ত কোনো বাড়ি। চারপাশে বন-জঙ্গল, ভবনের দেয়াল ও ছাদজুড়ে জরাজীর্ণতার ছাপ। কোথাও বড় ফাটল, কোথাও খসে পড়েছে পলেস্তারা। ভেতরে নেই বৈদ্যুতিক সংযোগ। পাশের আবাসিক ভবনটিও পড়ে আছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে মানুষের চিকিৎসাসেবা।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সাতবাড়ীয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির এমন বেহাল দশায় চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবনের ছাদে বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল রয়েছে। খসে পড়েছে পলেস্তারা। দেয়াল ও বিভিন্ন অংশে স্যাঁতসেঁতে ভাব। ভবনের চারপাশে গজিয়ে উঠেছে বন-জঙ্গল। ফলে পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিবেশ হয়ে উঠেছে অনিরাপদ। হালকা বৃষ্টিতেই ভবনের ভেতরে পানি উঠে যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় চিকিৎসাসেবা পরিচালনাতেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে স্থানীয় সাবদুল আলী (ছাদু মিয়া) স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের জন্য তাঁর নিজস্ব জায়গা দান করেন। পরে সেখানে ভবন নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘ প্রায় চার দশকে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে।


নাঙ্গলকোট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের জনবহুল সাতবাড়ীয়া এলাকায় সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু ভবনের বেহাল দশা ও অনিরাপদ পরিবেশের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় অনেকের পক্ষেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া কঠিন। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই চিকিৎসা নিতে আসছেন দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।

চিকিৎসা নিতে আসা খাদিজা বেগম (৪৮) বলেন, “আমি গরিব মানুষ। প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এখানেই চিকিৎসা নিতে আসতে হয়।”

সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের মেম্বার ইয়াকুব আলী বলেন, “মেম্বার হিসেবে এলাকার মানুষ তাদের সমস্যার কথা আমাকে জানান। আমিও সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত এখানে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করে দেওয়া প্রয়োজন।”

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “২০১৮ সাল থেকে এখানে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি। এখানে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। হালকা বৃষ্টিতেই পানি উঠে যায়। চারপাশে বন-জঙ্গল থাকায় অনেক সাপের বসবাস। সাপের আতঙ্কের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ জাকারিয়া বলেন, “এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানিয়েছি। তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি। নতুন ভবন করা সম্ভব না হলে আপাতত অন্য কোথাও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে অন্তত এই এলাকার মানুষের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার একটি ভালো ব্যবস্থা হবে।”


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত