ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
সবুজ পত্র

নাঙ্গলকোটে ফের শতভাগ ফেল, দুই মাদ্রাসায় পাস করেনি কেউ



নাঙ্গলকোটে ফের শতভাগ ফেল, দুই মাদ্রাসায় পাস করেনি কেউ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে আবারও হতাশাজনক চিত্র দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার দুটি মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান দুটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) সারাদেশের সঙ্গে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।

শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ হয়নি। অন্যদিকে, দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে মাত্র দুজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও দুজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নাঙ্গলকোটে দাখিল পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭৪ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৬১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন।

এদিকে এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ৩ হাজার ১৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৫৩৬ জন। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন। এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ২২৬ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫৬ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৬৯ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।

তবে দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং একাডেমিক তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনো প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে শুধু ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেই হবে না। এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নাঙ্গলকোটের সাবিত্রা উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে পরপর দুই বছর উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত একাডেমিক মনিটরিং, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ পাঠদান কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফলের মানোন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


নাঙ্গলকোটে ফের শতভাগ ফেল, দুই মাদ্রাসায় পাস করেনি কেউ

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে আবারও হতাশাজনক চিত্র দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার দুটি মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান দুটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) সারাদেশের সঙ্গে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।

শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ হয়নি। অন্যদিকে, দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে মাত্র দুজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও দুজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নাঙ্গলকোটে দাখিল পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭৪ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৬১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন।

এদিকে এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ৩ হাজার ১৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৫৩৬ জন। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন। এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ২২৬ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫৬ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৬৯ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।

তবে দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং একাডেমিক তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনো প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে শুধু ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেই হবে না। এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নাঙ্গলকোটের সাবিত্রা উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে পরপর দুই বছর উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত একাডেমিক মনিটরিং, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ পাঠদান কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফলের মানোন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত