ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সবুজ পত্র

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ



অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে।

এর আগে রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় সে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালায়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানানো হয়েছে।

শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ কোটবাড়ি গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে শেষবারের মতো তাকে দেখতে স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ভিড় জমে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।

অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ তার মা ড. নাহিদা বেগম। নিখোঁজ হওয়ার পর যাকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উৎকণ্ঠা ছিল, সেই অপ্রতিমকেই শেষ পর্যন্ত ফিরতে হয়েছে নিথর দেহ হয়ে। তার মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে।

এর আগে রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় সে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালায়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানানো হয়েছে।

শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ কোটবাড়ি গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে শেষবারের মতো তাকে দেখতে স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ভিড় জমে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।

অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ তার মা ড. নাহিদা বেগম। নিখোঁজ হওয়ার পর যাকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উৎকণ্ঠা ছিল, সেই অপ্রতিমকেই শেষ পর্যন্ত ফিরতে হয়েছে নিথর দেহ হয়ে। তার মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত