ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
সবুজ পত্র

অপপ্রচারের শিকার জুলাই জাদুঘর : নির্মাণ ব্যয় ও জনবল নিয়োগ নিয়ে ব্যাখ্যা



অপপ্রচারের শিকার জুলাই জাদুঘর : নির্মাণ ব্যয় ও জনবল নিয়োগ নিয়ে ব্যাখ্যা

সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রচার করে দাবি করা হয়েছে যে, প্রদর্শিত দৃশ্যটি জুলাই জাদুঘরের জনবল নিয়োগের ভাইভা বা সাক্ষাৎকারের। এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

প্রকৃতপক্ষে, জুলাই জাদুঘরে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের জনবল নিয়োগ করা হয়নি। জাদুঘর নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে এর গবেষকদের জুলাই শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়েছে। সেই সূত্রেই তাঁদের মধ্যে অনেকেই জুলাই জাদুঘরে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই প্রেক্ষিতে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয় যার মূল উদ্দেশ্য ছিলো আগ্রহী প্রার্থীদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে আবেদন করতে উৎসাহ দেয়া। সেই অনুযায়ী তারা আবেদনও করেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ডাকা হয়নি। সকল আবেদন যাচাই বাছাই করে পরীক্ষা অংশগ্রহণপূর্বক শীঘ্রই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। 

সম্প্রতি একজন কর্মচারীর রহস্যজনক ফোনালাপের সূত্র ধরে ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ সংক্রান্ত যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সংশ্লিষ্ট কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ের সাথেই সম্পৃক্ত নন। নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো ব্যক্তি কিভাবে এই অনৈতিক ও বেআইনি কার্যকলাপে লিপ্ত হয় সেটা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত কর্মচারীকে অন্য দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দাপ্তরিক এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় জাদুঘরের এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি জাদুঘরের বিদ্যমান প্রবিধানমালা অনুসরণ করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সংস্থা এবং জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক সম্পন্ন করা হবে। ফলে উক্ত প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধভাবে নিয়োগ প্রদানের বিন্দুমাত্র সুযোগ নাই। 

এছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মাত্র ৬ মাসে আপ্যায়ন বাবদ ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ের যে তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর। আরো বলা হয়েছে প্রতিদিন গড়ে ৫৬০০০ টাকা আপ‍্যায়ন ও নাস্তা বাবদ ব্যয় হয়েছে। প্রকৃত তথ্য হলো, গত ১৫.০৪.২০২৫ থেকে ১৫.০২.২০২৬ তারিখ পর্যন্ত  প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশেষ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিদেশি কূটনীতিক ও দেশি-বিদেশি সংবাদিক/গণমাধ্যমকর্মীদের আপ্যায়ন বাবদ সর্বমোট ৩৭,৪৪,৬৯৮/- (সাইত্রিশ লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার ছয়শত আটানব্বই) টাকা ব্যয় করা হয়। প্রতিদিন একই হারে খরচ না হলেও দৈনিক গড় হিসেবে এই ব্যয়ের পরিমাণ মাত্র ১২,২৩৮/- (বারো হাজার দুইশত আটত্রিশ) টাকা মাত্র। জুলাই জাদুঘরে টিনের বাউন্ডারি স্থাপনের কাজে ৬৪,৩৮,৪৭০/- (চৌষট্ট লক্ষ আটত্রিশ হাজার চারশত সত্তর) টাকা ব্যয়ের যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা জাদুঘর ব্যয় করেনি। কাজটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এটি তাদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৯৮ কোটি ৪৫ লক্ষ ২১ হাজার টাকার একটি অংশ মাত্র। জাতীয় জাদুঘর কেবল গণপূর্ত বিভাগের চাহিদার প্রেক্ষিতে কাজের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া এই নির্মাণ ব্যয়কে কেন্দ্র করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান যা সর্বদা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। তথ্যের খণ্ডিত ও মনগড়া ব্যাখ্যা প্রচার করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ যে কোনো গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায় এবং সর্বদা তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সাবেক ‘গণভবন’ স্থাপনাকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরকে অর্পণ করা হয়। সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় গণপূর্ত অধিদপ্তর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর সমন্বিতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাস্তবায়নে একযোগে কাজ শুরু করে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবন প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৭.৬৮ একর আয়তনের একটি বিধ্বস্ত ও অকার্যকর স্থাপনাকে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক জাদুঘরে রূপান্তর করা ছিল এক বিশাল প্রশাসনিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ। বিদ্যমান কাঠামোর ক্ষতি না করে দর্শনার্থীদের উপযোগী করে স্মারক নিদর্শন উপস্থাপন করাও ছিল অত্যন্ত জটিল ও শ্রমসাধ্য কর্মযজ্ঞ।

জাদুঘরের পূর্ত ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ খাতে ৯৮ কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া ১৯টি থিমে ৬২টি তথ্যচিত্র নির্মাণে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং ভাস্কর্য নির্মাণ, গ্যালারি সজ্জা, প্রতীকী কবরস্থান, আয়নাঘর, নিদর্শন সংগ্রহ, থ্রিডি চিত্র, মাল্টিমিডিয়া স্থাপনা, অফিস আসবাবপত্র, স্টোরেজ নির্মাণ ও কিউরেটিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কাজের পরিধি ও মান বিবেচনায় এই ব্যয় বাস্তবসম্মত ও পরিমিত।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি জাদুঘরের কিউরেটিং, তথ্য সংগ্রহ ও স্মৃতিনিদর্শন সংরক্ষণের মতো সংবেদনশীল কাজে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক রিসার্চার দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। কাজটির গুরুত্ব বিবেচনায় মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাসহ তৎকালীন সরকারের প্রায় সব উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ নিয়মিত নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন। বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও জাদুঘরটি পরিদর্শন করে প্রশংসা করেছেন এবং এটিকে একটি ‘জীবন্ত জাদুঘর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

জুলাই জাদুঘরকে একটি সার্থক জাদুঘর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনিক অনুমোদনের ভিত্তিতে যে ব্যয় হয়েছে, তা সম্পূর্ণ দাপ্তরিক নিয়ম, সরকারি বিধি ও কঠোর আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রেখেই সম্পন্ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অসত্য, বিভ্রান্তিকর বা যাচাই-বাছাইহীন তথ্য প্রচার অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।

বর্তমানে জাদুঘরটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুব শীঘ্রই এটি উদ্বোধন করবেন মর্মে অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে, তা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রদানের জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


অপপ্রচারের শিকার জুলাই জাদুঘর : নির্মাণ ব্যয় ও জনবল নিয়োগ নিয়ে ব্যাখ্যা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রচার করে দাবি করা হয়েছে যে, প্রদর্শিত দৃশ্যটি জুলাই জাদুঘরের জনবল নিয়োগের ভাইভা বা সাক্ষাৎকারের। এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

প্রকৃতপক্ষে, জুলাই জাদুঘরে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের জনবল নিয়োগ করা হয়নি। জাদুঘর নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে এর গবেষকদের জুলাই শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়েছে। সেই সূত্রেই তাঁদের মধ্যে অনেকেই জুলাই জাদুঘরে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই প্রেক্ষিতে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয় যার মূল উদ্দেশ্য ছিলো আগ্রহী প্রার্থীদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে আবেদন করতে উৎসাহ দেয়া। সেই অনুযায়ী তারা আবেদনও করেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ডাকা হয়নি। সকল আবেদন যাচাই বাছাই করে পরীক্ষা অংশগ্রহণপূর্বক শীঘ্রই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। 

সম্প্রতি একজন কর্মচারীর রহস্যজনক ফোনালাপের সূত্র ধরে ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ সংক্রান্ত যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সংশ্লিষ্ট কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ের সাথেই সম্পৃক্ত নন। নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো ব্যক্তি কিভাবে এই অনৈতিক ও বেআইনি কার্যকলাপে লিপ্ত হয় সেটা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত কর্মচারীকে অন্য দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দাপ্তরিক এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় জাদুঘরের এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি জাদুঘরের বিদ্যমান প্রবিধানমালা অনুসরণ করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সংস্থা এবং জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক সম্পন্ন করা হবে। ফলে উক্ত প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধভাবে নিয়োগ প্রদানের বিন্দুমাত্র সুযোগ নাই। 

এছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মাত্র ৬ মাসে আপ্যায়ন বাবদ ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ের যে তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর। আরো বলা হয়েছে প্রতিদিন গড়ে ৫৬০০০ টাকা আপ‍্যায়ন ও নাস্তা বাবদ ব্যয় হয়েছে। প্রকৃত তথ্য হলো, গত ১৫.০৪.২০২৫ থেকে ১৫.০২.২০২৬ তারিখ পর্যন্ত  প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশেষ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিদেশি কূটনীতিক ও দেশি-বিদেশি সংবাদিক/গণমাধ্যমকর্মীদের আপ্যায়ন বাবদ সর্বমোট ৩৭,৪৪,৬৯৮/- (সাইত্রিশ লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার ছয়শত আটানব্বই) টাকা ব্যয় করা হয়। প্রতিদিন একই হারে খরচ না হলেও দৈনিক গড় হিসেবে এই ব্যয়ের পরিমাণ মাত্র ১২,২৩৮/- (বারো হাজার দুইশত আটত্রিশ) টাকা মাত্র। জুলাই জাদুঘরে টিনের বাউন্ডারি স্থাপনের কাজে ৬৪,৩৮,৪৭০/- (চৌষট্ট লক্ষ আটত্রিশ হাজার চারশত সত্তর) টাকা ব্যয়ের যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা জাদুঘর ব্যয় করেনি। কাজটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এটি তাদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৯৮ কোটি ৪৫ লক্ষ ২১ হাজার টাকার একটি অংশ মাত্র। জাতীয় জাদুঘর কেবল গণপূর্ত বিভাগের চাহিদার প্রেক্ষিতে কাজের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া এই নির্মাণ ব্যয়কে কেন্দ্র করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান যা সর্বদা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। তথ্যের খণ্ডিত ও মনগড়া ব্যাখ্যা প্রচার করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ যে কোনো গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায় এবং সর্বদা তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সাবেক ‘গণভবন’ স্থাপনাকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরকে অর্পণ করা হয়। সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় গণপূর্ত অধিদপ্তর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর সমন্বিতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাস্তবায়নে একযোগে কাজ শুরু করে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবন প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৭.৬৮ একর আয়তনের একটি বিধ্বস্ত ও অকার্যকর স্থাপনাকে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক জাদুঘরে রূপান্তর করা ছিল এক বিশাল প্রশাসনিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ। বিদ্যমান কাঠামোর ক্ষতি না করে দর্শনার্থীদের উপযোগী করে স্মারক নিদর্শন উপস্থাপন করাও ছিল অত্যন্ত জটিল ও শ্রমসাধ্য কর্মযজ্ঞ।

জাদুঘরের পূর্ত ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ খাতে ৯৮ কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া ১৯টি থিমে ৬২টি তথ্যচিত্র নির্মাণে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং ভাস্কর্য নির্মাণ, গ্যালারি সজ্জা, প্রতীকী কবরস্থান, আয়নাঘর, নিদর্শন সংগ্রহ, থ্রিডি চিত্র, মাল্টিমিডিয়া স্থাপনা, অফিস আসবাবপত্র, স্টোরেজ নির্মাণ ও কিউরেটিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কাজের পরিধি ও মান বিবেচনায় এই ব্যয় বাস্তবসম্মত ও পরিমিত।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি জাদুঘরের কিউরেটিং, তথ্য সংগ্রহ ও স্মৃতিনিদর্শন সংরক্ষণের মতো সংবেদনশীল কাজে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক রিসার্চার দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। কাজটির গুরুত্ব বিবেচনায় মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাসহ তৎকালীন সরকারের প্রায় সব উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ নিয়মিত নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন। বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও জাদুঘরটি পরিদর্শন করে প্রশংসা করেছেন এবং এটিকে একটি ‘জীবন্ত জাদুঘর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

জুলাই জাদুঘরকে একটি সার্থক জাদুঘর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনিক অনুমোদনের ভিত্তিতে যে ব্যয় হয়েছে, তা সম্পূর্ণ দাপ্তরিক নিয়ম, সরকারি বিধি ও কঠোর আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রেখেই সম্পন্ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অসত্য, বিভ্রান্তিকর বা যাচাই-বাছাইহীন তথ্য প্রচার অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।

বর্তমানে জাদুঘরটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুব শীঘ্রই এটি উদ্বোধন করবেন মর্মে অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে, তা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রদানের জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত