ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
সবুজ পত্র

বিদ্যুৎ প্রয়োজন ২৫ মেগাওয়াট, মিলছে ১৫



বিদ্যুৎ প্রয়োজন ২৫ মেগাওয়াট, মিলছে ১৫

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে চলছে তীব্র লোডশেডিং। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্করা। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা ও কৃষিকাজ।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হলেও অধিকাংশ সময় ভোল্টেজ এতটাই কম থাকে যে ফ্যান, ফ্রিজ, রাইস কুকার ও সেচ পাম্পের মতো প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। সামান্য কালবৈশাখী বা বৃষ্টি হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার অভিযোগও রয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে। উপজেলা সদর, মান্দারগাঁও, বাইশগাঁও ও হাসনাবাদ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বড় শপিংমল, স-মিল, রাইস মিল, কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও আইপিএস ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ বহন করতে হচ্ছে তাদের। এতে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেড়েছে। রাতের বেলা বিদ্যুৎহীন থাকায় পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। লো-ভোল্টেজের কারণে কৃষকেরা সময়মতো সেচ দিতে না পারায় কৃষি উৎপাদন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পরও এমন দুর্ভোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর মনোহরগঞ্জ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. এ কে এম আজাদ বলেন, ‘মনোহরগঞ্জ উপজেলাবাসীর জন্য বর্তমানে দৈনিক ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু আমরা জাতীয় গ্রিড থেকে পাচ্ছি মাত্র ১৫ মেগাওয়াট। বাকি ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ (সাপ্লাই) না থাকার কারণেই এই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’

জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের বরাদ্দ না বাড়লে এই সংকট দ্রুত সমাধান করা কঠিন হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


বিদ্যুৎ প্রয়োজন ২৫ মেগাওয়াট, মিলছে ১৫

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে চলছে তীব্র লোডশেডিং। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্করা। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা ও কৃষিকাজ।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হলেও অধিকাংশ সময় ভোল্টেজ এতটাই কম থাকে যে ফ্যান, ফ্রিজ, রাইস কুকার ও সেচ পাম্পের মতো প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। সামান্য কালবৈশাখী বা বৃষ্টি হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার অভিযোগও রয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে। উপজেলা সদর, মান্দারগাঁও, বাইশগাঁও ও হাসনাবাদ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বড় শপিংমল, স-মিল, রাইস মিল, কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও আইপিএস ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ বহন করতে হচ্ছে তাদের। এতে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেড়েছে। রাতের বেলা বিদ্যুৎহীন থাকায় পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। লো-ভোল্টেজের কারণে কৃষকেরা সময়মতো সেচ দিতে না পারায় কৃষি উৎপাদন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পরও এমন দুর্ভোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর মনোহরগঞ্জ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. এ কে এম আজাদ বলেন, ‘মনোহরগঞ্জ উপজেলাবাসীর জন্য বর্তমানে দৈনিক ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু আমরা জাতীয় গ্রিড থেকে পাচ্ছি মাত্র ১৫ মেগাওয়াট। বাকি ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ (সাপ্লাই) না থাকার কারণেই এই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’

জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের বরাদ্দ না বাড়লে এই সংকট দ্রুত সমাধান করা কঠিন হবে বলেও জানান তিনি।


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত