ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
সবুজ পত্র

খাল খননের নামে উপড়ে ফেলা হয়েছে অর্ধশতাধিক তাল গাছ



খাল খননের নামে উপড়ে ফেলা হয়েছে অর্ধশতাধিক তাল গাছ

লাকসামে খাল খননের কাজ করতে গিয়ে গ্রামীণ সড়কের অর্ধশতাধিক তাল গাছ ও খেজুরগাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই শনিবার উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের আবেদনগর গ্রামীণ সড়কের এই তালগাছ ও খেজুরগাছ গুলো এক্সকাভেটর (ভেকু মেশিন) দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।পাশাপাশি অবাক হয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বনসংরক্ষন কর্মকর্তা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,উপজেলার আবেদনগর মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্রিজ থেকে কোটইশা গ্রাম পযন্ত একটি গ্রামী মাটির রাস্তা। সেই রাস্তার পাশে রয়েছে সারি সারি তালগাছ ও খেজুর গাছ। রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খৈয়াখালী নামে খাল।খাল খননের না করে রাস্তায় এক্সকাভেটর (ভেকু মেশিন) দিয়ে মাটি ও তালগাছ গুলো উপড়ে ফেলা হচ্ছে খালের মধ্যে। এসময় ভেকুর চালক শরিফ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার দেখে গেছেন এবং বলেছেন খাল খননের কাজের প্রয়োজনে কেটে নিতে, তাই কাটছি।

স্থানীয় সলিমুল্লা বলেন, আমি শুনেছি খালের পাড়ে তালগাছগুলো ঝুকিপূর্ণ হওয়ার কারণে কেটেছে। তারপরও আপনি খাল খননের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি হারুন ও ইউনিয়ন যুবদলের ফারুকের সাথে কথা বলেতে পারেন।

কান্দিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি হারুন রশিদ বলেন, ভেকু দিয়ে খাল খননের কাজ হচ্ছে, সেখানে তালগাছ কেন কাটা হবে, বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইজিপিপি কর্মসূচি আওতায় উপজেলার বাকই দক্ষিণ ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের বিরামপুর ব্রীজ এলাকা হইতে কান্দিরপাড় ইউনিয়ন হামিরাবাগ পযন্ত খৈয়াখালী নাম ১২ কিলোমিটার পূ্ণ খাল খননের জন্য দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের থেকে বরাদ্দ হয়।এ প্রকল্পটির জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন প্রায় ১০৭১ জন শ্রমিক এ কাজে নিয়োজিত থাকবেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো আহমেদ উল্ল্যাহ সবুজ বলেন খাল খনন করবে তালগাছ কাটতে আমি কাউকে অনুমতি দেইনি। পরিবেশের জন্য তালগাছ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তালগাছ রক্ষা করা ও রোপণ অতি জরুরি, তাই আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। যারা তালগাছ কাটছে তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ, গত ১৩ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক ভাবে খাল খননের কাজ উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানার সভাপতিত্বে ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা-৯(লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আবুল কালাম। এসময় উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


খাল খননের নামে উপড়ে ফেলা হয়েছে অর্ধশতাধিক তাল গাছ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

লাকসামে খাল খননের কাজ করতে গিয়ে গ্রামীণ সড়কের অর্ধশতাধিক তাল গাছ ও খেজুরগাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই শনিবার উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের আবেদনগর গ্রামীণ সড়কের এই তালগাছ ও খেজুরগাছ গুলো এক্সকাভেটর (ভেকু মেশিন) দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।পাশাপাশি অবাক হয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বনসংরক্ষন কর্মকর্তা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,উপজেলার আবেদনগর মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্রিজ থেকে কোটইশা গ্রাম পযন্ত একটি গ্রামী মাটির রাস্তা। সেই রাস্তার পাশে রয়েছে সারি সারি তালগাছ ও খেজুর গাছ। রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খৈয়াখালী নামে খাল।খাল খননের না করে রাস্তায় এক্সকাভেটর (ভেকু মেশিন) দিয়ে মাটি ও তালগাছ গুলো উপড়ে ফেলা হচ্ছে খালের মধ্যে। এসময় ভেকুর চালক শরিফ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার দেখে গেছেন এবং বলেছেন খাল খননের কাজের প্রয়োজনে কেটে নিতে, তাই কাটছি।

স্থানীয় সলিমুল্লা বলেন, আমি শুনেছি খালের পাড়ে তালগাছগুলো ঝুকিপূর্ণ হওয়ার কারণে কেটেছে। তারপরও আপনি খাল খননের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি হারুন ও ইউনিয়ন যুবদলের ফারুকের সাথে কথা বলেতে পারেন।

কান্দিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি হারুন রশিদ বলেন, ভেকু দিয়ে খাল খননের কাজ হচ্ছে, সেখানে তালগাছ কেন কাটা হবে, বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইজিপিপি কর্মসূচি আওতায় উপজেলার বাকই দক্ষিণ ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের বিরামপুর ব্রীজ এলাকা হইতে কান্দিরপাড় ইউনিয়ন হামিরাবাগ পযন্ত খৈয়াখালী নাম ১২ কিলোমিটার পূ্ণ খাল খননের জন্য দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের থেকে বরাদ্দ হয়।এ প্রকল্পটির জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন প্রায় ১০৭১ জন শ্রমিক এ কাজে নিয়োজিত থাকবেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো আহমেদ উল্ল্যাহ সবুজ বলেন খাল খনন করবে তালগাছ কাটতে আমি কাউকে অনুমতি দেইনি। পরিবেশের জন্য তালগাছ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তালগাছ রক্ষা করা ও রোপণ অতি জরুরি, তাই আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। যারা তালগাছ কাটছে তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ, গত ১৩ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক ভাবে খাল খননের কাজ উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানার সভাপতিত্বে ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা-৯(লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আবুল কালাম। এসময় উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত