কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একাধিকবার থানায় অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার। বরং দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে চক্রগুলো। জানা গেছে, লালমাই উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের বেলঘর এলাকার মৃত মাছু মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৩৫) ওরফে কালা সুমনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। গত কয়েকদিন পূর্বে এই চক্রেরই এক সদস্য স্থানীয় গেয়ারভাঙ্গা বাজারের মোতাহার হোসেনের মেকানিক মোঃ শামীম (২৮) কে মাদকদ্রব্যসহ আটক করে পুলিশে দেয় ওই ইউনিয়নের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়রা জানান, গত চারই আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পরপরই আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে সুমন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নিরীহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তার নেতৃত্বে এ এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও অসামাজিক কার্যকলাপ যেন তার নিত্য সঙ্গী। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এলাকায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। তার অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চান এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, সুমন (পোপাই) এর কোনো ভয় কাজ করে না। সারাদিন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের বিপদে ফেলে টাকা দাবি করে। পরে তার চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীদের দোকান খুলতে দেওয়া হয়না। এছাড়াও রাস্তার ড্রেন উন্নয়ন কাজে অযথা বাঁধা সৃষ্টি করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা দাবি করে বলে চাঁদা দিলে বিভিন্ন অজুহাতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।
পূর্বেও এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির কারণে তাকে কয়েকবার সেনাবাহিনী এবং পুলিশ তুলে নিয়ে যায় জেল খেটে বের হওয়ার পরও আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।
এলাকাবাসী আরো জানান, মাদক কেনার জন্য আসা উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের উৎপাতে অতিষ্ঠ তারা।
বাড়ছে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা, তৈরি হচ্ছে চরম নিরাপত্তাহীনতা। নষ্ট হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। ছেলে ও মেয়েরা মাদকে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এগুলো থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে লালমাই থানার থানার ওসি মোঃ নুরুজ্জামান, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
শুধু বেলঘর এলাকা নয়, গোটা লালমাই থানা এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একাধিকবার থানায় অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার। বরং দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে চক্রগুলো। জানা গেছে, লালমাই উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের বেলঘর এলাকার মৃত মাছু মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৩৫) ওরফে কালা সুমনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। গত কয়েকদিন পূর্বে এই চক্রেরই এক সদস্য স্থানীয় গেয়ারভাঙ্গা বাজারের মোতাহার হোসেনের মেকানিক মোঃ শামীম (২৮) কে মাদকদ্রব্যসহ আটক করে পুলিশে দেয় ওই ইউনিয়নের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়রা জানান, গত চারই আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পরপরই আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে সুমন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নিরীহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তার নেতৃত্বে এ এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও অসামাজিক কার্যকলাপ যেন তার নিত্য সঙ্গী। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এলাকায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। তার অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চান এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, সুমন (পোপাই) এর কোনো ভয় কাজ করে না। সারাদিন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের বিপদে ফেলে টাকা দাবি করে। পরে তার চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীদের দোকান খুলতে দেওয়া হয়না। এছাড়াও রাস্তার ড্রেন উন্নয়ন কাজে অযথা বাঁধা সৃষ্টি করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা দাবি করে বলে চাঁদা দিলে বিভিন্ন অজুহাতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।
পূর্বেও এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির কারণে তাকে কয়েকবার সেনাবাহিনী এবং পুলিশ তুলে নিয়ে যায় জেল খেটে বের হওয়ার পরও আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।
এলাকাবাসী আরো জানান, মাদক কেনার জন্য আসা উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের উৎপাতে অতিষ্ঠ তারা।
বাড়ছে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা, তৈরি হচ্ছে চরম নিরাপত্তাহীনতা। নষ্ট হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। ছেলে ও মেয়েরা মাদকে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এগুলো থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে লালমাই থানার থানার ওসি মোঃ নুরুজ্জামান, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
শুধু বেলঘর এলাকা নয়, গোটা লালমাই থানা এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন