লালমাই উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ সহ ৩ ব্যাক্তিকে গণধোলাই দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতের দুই নেতাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের পাচপুকুরিয়া ও ভাটরা এলাকার কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক গোলাম সরওয়ার কামালকে। এছাড়া ১১ নম্বর আসামি করা হয়েছে লালমাই উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেনকে।মামলায় উল্লেখিত অন্য আসামিরা হলেন, গোলাম আজম শাহপরাণ (৪০), মোজাম্মেল হোসেন (২৬), মোস্তাক (৩০), আল আমিন (২২), রনি (২৪), নোমান (২৩), মশিউর রহমান (২০) ও তোফাজ্জল হোসেন (২৭)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, গোলাম সরওয়ার কামাল ও কামাল হোসেন ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।এদিকে, ঘটনার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লালমাই উপজেলা শাখার আমির মাওলানা আবদুন নূর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন,“উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে শান্ত লালমাই উপজেলাকে অশান্ত করে যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, তাদের এই অসৎ উদ্দেশ্য কখনোই সফল হবে না, ইনশাআল্লাহ।”স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গরু চুরির সন্দেহে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ সহ ৩জনকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এ বিষয়ে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান বলেন , অভিযোগের ভিত্তিতে ১১জনের নাম উল্লেখ করে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে