ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
সবুজ পত্র

চৌদ্দগ্রামে স্কুলছাত্রীদের গোপন ভিডিও ধারণ, দপ্তরি আটক



চৌদ্দগ্রামে স্কুলছাত্রীদের গোপন ভিডিও ধারণ, দপ্তরি আটক

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের মুন্সিরহাটে এক নারীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্যক্তকরণ এবং মুন্সিরহাট হাই স্কুলের ছাত্রীদের গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে প্রান্ত কুমার দত্ত (২৪) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।অভিযুক্ত প্রান্ত শুভপুর গাছবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত।

গত১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এক নারীকে উত্যক্ত করার অভিযোগে স্থানীয় যুবকদের পাতা ফাঁদে তিনি প্রথম আটক হন। পরবর্তীতে তার মুঠোফোন পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে আসে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের গোপন ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল চেষ্টার মতো আরও এক রোমহর্ষক ও সংবেদনশীল তথ্য।এদিকে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঘটা এই গুরুতর অপরাধের বিষয়টি মৌখিকভাবে ধামাচাপা দিয়ে অভিযুক্তকে পদে বহাল রাখার অপচেষ্টায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত প্রান্ত কুমার দত্ত এক নারীর মুঠোফোন নম্বরে কল করে অশালীন কথাবার্তা ও আপত্তিকর ইঙ্গিত দিতে থাকে। বিষয়টি ভুক্তভোগী নারী তার পরিবারকে জানালে,ওই নারীর ছেলে নিজের পরিচয় গোপন রেখে মায়ের ‘ইমু’ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রান্তর সাথে মেসেজে যোগাযোগ রক্ষা করে।এক পর্যায়ে অভিযুক্ত প্রান্ত ওই নারীর সাথে সরাসরি সাক্ষাতের তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে মুন্সিরহাট বাজারের একটি নির্দিষ্ট স্থানে আসার কথা বলা হয়।সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা স্থানীয় সাহসী তরুণ মুহাম্মদ মাফুজ ও মোঃশাকিল মোল্লাসহ তাদের সহযোগীরা অভিযুক্ত প্রান্ত কুমার দত্তকে হাতেনাতে আটক করে।ওই সময় প্রান্তর সাথে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে যৌন উত্তেজন ঔষধ ও সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবা হলেও,প্রান্তর মুঠোফোনটি পরীক্ষা করতেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ফোনের মেসেঞ্জার, গ্যালারি ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখা যায়,মুন্সিরহাট হাই স্কুলের দপ্তরি পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে বিদ্যালয়ের একাধিক মুসলিম ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল এবং প্রেমের প্রলোভনে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছিল। শুধু তাই নয়,তার ফোনে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের গোপনে ধারণ করা অসংখ্য আপত্তিকর ভিডিও ও কনটেন্ট পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন আটককারীরা। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ার পরেও সে ক্রমাগত এই ধরনের অসামাজিক মেসেজ পাঠিয়ে আসছিল।

গত ১৭ অক্টোবর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং শুধুমাত্র একটি মৌখিক ক্ষমা চাওয়ানোর পর অভিযুক্ত দপ্তরিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।এমনকি বিদ্যালয়ে তার চাকরিও বহাল রাখা হয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুন্সিরহাট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমলেশ মন্ডল সংবাদ মাধ্যমকে জানান,বর্তমানে বিদ্যালয়টি দুর্গাপূজার ছুটিতে রয়েছে।পূজার ছুটির পর বিদ্যালয় খুললেই এই গুরুতর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে।তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক যথাযথ আইনানুগ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


চৌদ্দগ্রামে স্কুলছাত্রীদের গোপন ভিডিও ধারণ, দপ্তরি আটক

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের মুন্সিরহাটে এক নারীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্যক্তকরণ এবং মুন্সিরহাট হাই স্কুলের ছাত্রীদের গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে প্রান্ত কুমার দত্ত (২৪) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।অভিযুক্ত প্রান্ত শুভপুর গাছবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত।

গত১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এক নারীকে উত্যক্ত করার অভিযোগে স্থানীয় যুবকদের পাতা ফাঁদে তিনি প্রথম আটক হন। পরবর্তীতে তার মুঠোফোন পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে আসে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের গোপন ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল চেষ্টার মতো আরও এক রোমহর্ষক ও সংবেদনশীল তথ্য।এদিকে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঘটা এই গুরুতর অপরাধের বিষয়টি মৌখিকভাবে ধামাচাপা দিয়ে অভিযুক্তকে পদে বহাল রাখার অপচেষ্টায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত প্রান্ত কুমার দত্ত এক নারীর মুঠোফোন নম্বরে কল করে অশালীন কথাবার্তা ও আপত্তিকর ইঙ্গিত দিতে থাকে। বিষয়টি ভুক্তভোগী নারী তার পরিবারকে জানালে,ওই নারীর ছেলে নিজের পরিচয় গোপন রেখে মায়ের ‘ইমু’ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রান্তর সাথে মেসেজে যোগাযোগ রক্ষা করে।এক পর্যায়ে অভিযুক্ত প্রান্ত ওই নারীর সাথে সরাসরি সাক্ষাতের তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে মুন্সিরহাট বাজারের একটি নির্দিষ্ট স্থানে আসার কথা বলা হয়।সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা স্থানীয় সাহসী তরুণ মুহাম্মদ মাফুজ ও মোঃশাকিল মোল্লাসহ তাদের সহযোগীরা অভিযুক্ত প্রান্ত কুমার দত্তকে হাতেনাতে আটক করে।ওই সময় প্রান্তর সাথে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে যৌন উত্তেজন ঔষধ ও সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবা হলেও,প্রান্তর মুঠোফোনটি পরীক্ষা করতেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ফোনের মেসেঞ্জার, গ্যালারি ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখা যায়,মুন্সিরহাট হাই স্কুলের দপ্তরি পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে বিদ্যালয়ের একাধিক মুসলিম ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল এবং প্রেমের প্রলোভনে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছিল। শুধু তাই নয়,তার ফোনে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের গোপনে ধারণ করা অসংখ্য আপত্তিকর ভিডিও ও কনটেন্ট পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন আটককারীরা। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ার পরেও সে ক্রমাগত এই ধরনের অসামাজিক মেসেজ পাঠিয়ে আসছিল।

গত ১৭ অক্টোবর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং শুধুমাত্র একটি মৌখিক ক্ষমা চাওয়ানোর পর অভিযুক্ত দপ্তরিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।এমনকি বিদ্যালয়ে তার চাকরিও বহাল রাখা হয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুন্সিরহাট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমলেশ মন্ডল সংবাদ মাধ্যমকে জানান,বর্তমানে বিদ্যালয়টি দুর্গাপূজার ছুটিতে রয়েছে।পূজার ছুটির পর বিদ্যালয় খুললেই এই গুরুতর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে।তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক যথাযথ আইনানুগ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত