ঢাকা    শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সবুজ পত্র

ইজিবাইক ও মিশুকের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ লাকসাম পৌরবাসী



ইজিবাইক ও মিশুকের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ লাকসাম পৌরবাসী

লাকসাম পৌর শহরে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ইজিবাইক ও মিশুকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধির কারণে পৌরশহরে নিত্য সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় যানজট। অদক্ষ ও অল্পবয়স্ক এসব ইজিবাইক ও মিশুক চালকদের নেই কোনো সিগন্যাল জ্ঞান। ফলে যেভাবে খুশি সেভাবে ইজিবাইক চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী উঠা-নামা, সড়কে অবৈধ স্ট্যান্ড এবং ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় অতিমাত্রায় বেড়েছে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহনের যাত্রী, চালক, স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পৌরবাসীকে। বর্তমানে লাকসাম শহরবাসীর দুর্ভোগের নতুন নাম ‘অনাকাঙ্ক্ষিত যানজট’।

আবদুর রহমান (৫৫) একজন মিশুক চালক। তাঁর বাড়ি লালমাই উপজেলার দরবেশপাড়া গ্রামে। প্রতিদিন তিনি উপজেলা শহরে ব্যাটারিচালিত মিশুক চালান। তিনি জানান, "প্রতিদিন রাতে ১২০ টাকা দিয়ে ব্যাটারি চার্জ দিই, দিনে মিশুক চালাই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৮শ'– ১ হাজার টাকা রুজি হয়। এর মধ্যে মালিককে ৪শ' টাকা দিতে হয়। সারাদিনে ১৪০ টাকা বিভিন্নভাবে খরচ হয়। দিনশেষে ৩-৪শ' টাকা পকেটে নিয়ে বাড়িতে যাই। কিন্তু যানজটের কারণে হাঁফিয়ে উঠছি। ৫ মিনিট চালালে ২০ মিনিটই জ্যামে (যানজটে) আটকে থাকতে হয়।"

পৌরসভার বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলতঃ তিন কারণে লাকসাম শহরে যানজট বেড়েছে। এগুলো হচ্ছে—অতিরিক্তসংখ্যক মিশুক ও ইজিবাইক চলাচল, অবৈধ স্ট্যান্ড এবং বিশৃঙ্খলভাবে মিশুক ও ইজিবাইক চলাচল। এসব কারণে শহরের ব্যস্ততম ব্যাংক রোড, থানা রোড়, নোয়াখালী রেলগেট, বাইপাস মোড়, হকার্স মার্কেট এবং উপজেলা পরিষদের প্রধান সড়ক সব সময় যানজট লেগেই থাকে। যানজটের কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছে কয়েক লাখ মানুষ।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার মিশুক ও ২৭টি ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ, যেগুলো পৌরশহরে চলাচল করার কথা। এছাড়াও সড়কে যানজট নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ ১১ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ দিয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছে ৭ জন পুলিশ। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে তাঁদের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না। শহরের কয়েকটা পয়েন্টে পৌর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকলেও তাঁরা যানজট নিরসনে কার্যকর তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণির পৌর সভায় প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার মিশুক ও ২ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। তাছাড়া, দিনের বেলায় পৌরশহরের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে লরি, ট্রাকসহ বিভিন্ন বড় বড় যানবাহন। অপরদিকে, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড চত্বরে, বাইপাস ডায়গনস্টিক সেন্টার, কবুতর বাজার, রেলগেট (রিনা হোটেল) সামনে প্রধান সড়কের দু'পাশে ইজিবাইক ও মিশুকের অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এসব স্ট্যান্ড সড়কের বড় অংশ দখল করে নিয়েছে। অনুমোদনহীন এসব স্ট্যান্ডের কারণে পৌরশহরে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।

কামাল উদ্দিন নামে এক সংবাদকর্মী বলেন, "শহরে অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে। ব্যস্ততম সড়কের মোড়গুলোতে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।" তিনি বলেন, "গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন ছাত্ররা ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করে। তখন শহরের অবস্থা অনেকটা ভালো ছিল। কিন্তু এখন পৌর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও যানজট কোনোভাবেই কমছে না।"

শহরের ধান বাজার ব্রিজ রোডের মুদি দোকানদার সরোয়ার আলম বলেন, "লাকসাম পৌর শহরের চারদিক থেকে মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, লালমাই উপজেলার প্রায় ৮ লক্ষাধিক মানুষ শহরে প্রবেশ করে। ফলে এ রোডে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে।"

লাকসাম ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক ইনচার্জ আমিনুল কবির বলেন, "সড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হলো—যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি। এ ক্ষেত্রে পৌরসভার নিবন্ধন করা অটোরিকশা ও নিবন্ধনবিহীন রিকশা চিহ্নিত করা দরকার। এতে বাইরের অটোরিকশা শহরে ঢুকতে পারবে না। তখন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের কাজ করতে সুবিধা হবে। বিষয়টি একাধিকবার পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।"

এ বিষয়ে লাকসাম পৌরসভা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, "বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। যানজট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা হয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ইজিবাইক ও মিশুকের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ লাকসাম পৌরবাসী

প্রকাশের তারিখ : ০৯ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

লাকসাম পৌর শহরে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ইজিবাইক ও মিশুকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধির কারণে পৌরশহরে নিত্য সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় যানজট। অদক্ষ ও অল্পবয়স্ক এসব ইজিবাইক ও মিশুক চালকদের নেই কোনো সিগন্যাল জ্ঞান। ফলে যেভাবে খুশি সেভাবে ইজিবাইক চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী উঠা-নামা, সড়কে অবৈধ স্ট্যান্ড এবং ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় অতিমাত্রায় বেড়েছে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহনের যাত্রী, চালক, স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পৌরবাসীকে। বর্তমানে লাকসাম শহরবাসীর দুর্ভোগের নতুন নাম ‘অনাকাঙ্ক্ষিত যানজট’।

আবদুর রহমান (৫৫) একজন মিশুক চালক। তাঁর বাড়ি লালমাই উপজেলার দরবেশপাড়া গ্রামে। প্রতিদিন তিনি উপজেলা শহরে ব্যাটারিচালিত মিশুক চালান। তিনি জানান, "প্রতিদিন রাতে ১২০ টাকা দিয়ে ব্যাটারি চার্জ দিই, দিনে মিশুক চালাই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৮শ'– ১ হাজার টাকা রুজি হয়। এর মধ্যে মালিককে ৪শ' টাকা দিতে হয়। সারাদিনে ১৪০ টাকা বিভিন্নভাবে খরচ হয়। দিনশেষে ৩-৪শ' টাকা পকেটে নিয়ে বাড়িতে যাই। কিন্তু যানজটের কারণে হাঁফিয়ে উঠছি। ৫ মিনিট চালালে ২০ মিনিটই জ্যামে (যানজটে) আটকে থাকতে হয়।"

পৌরসভার বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলতঃ তিন কারণে লাকসাম শহরে যানজট বেড়েছে। এগুলো হচ্ছে—অতিরিক্তসংখ্যক মিশুক ও ইজিবাইক চলাচল, অবৈধ স্ট্যান্ড এবং বিশৃঙ্খলভাবে মিশুক ও ইজিবাইক চলাচল। এসব কারণে শহরের ব্যস্ততম ব্যাংক রোড, থানা রোড়, নোয়াখালী রেলগেট, বাইপাস মোড়, হকার্স মার্কেট এবং উপজেলা পরিষদের প্রধান সড়ক সব সময় যানজট লেগেই থাকে। যানজটের কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছে কয়েক লাখ মানুষ।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার মিশুক ও ২৭টি ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ, যেগুলো পৌরশহরে চলাচল করার কথা। এছাড়াও সড়কে যানজট নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ ১১ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ দিয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছে ৭ জন পুলিশ। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে তাঁদের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না। শহরের কয়েকটা পয়েন্টে পৌর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকলেও তাঁরা যানজট নিরসনে কার্যকর তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণির পৌর সভায় প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার মিশুক ও ২ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। তাছাড়া, দিনের বেলায় পৌরশহরের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে লরি, ট্রাকসহ বিভিন্ন বড় বড় যানবাহন। অপরদিকে, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড চত্বরে, বাইপাস ডায়গনস্টিক সেন্টার, কবুতর বাজার, রেলগেট (রিনা হোটেল) সামনে প্রধান সড়কের দু'পাশে ইজিবাইক ও মিশুকের অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এসব স্ট্যান্ড সড়কের বড় অংশ দখল করে নিয়েছে। অনুমোদনহীন এসব স্ট্যান্ডের কারণে পৌরশহরে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।

কামাল উদ্দিন নামে এক সংবাদকর্মী বলেন, "শহরে অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে। ব্যস্ততম সড়কের মোড়গুলোতে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।" তিনি বলেন, "গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন ছাত্ররা ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করে। তখন শহরের অবস্থা অনেকটা ভালো ছিল। কিন্তু এখন পৌর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও যানজট কোনোভাবেই কমছে না।"

শহরের ধান বাজার ব্রিজ রোডের মুদি দোকানদার সরোয়ার আলম বলেন, "লাকসাম পৌর শহরের চারদিক থেকে মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, লালমাই উপজেলার প্রায় ৮ লক্ষাধিক মানুষ শহরে প্রবেশ করে। ফলে এ রোডে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে।"

লাকসাম ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক ইনচার্জ আমিনুল কবির বলেন, "সড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হলো—যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি। এ ক্ষেত্রে পৌরসভার নিবন্ধন করা অটোরিকশা ও নিবন্ধনবিহীন রিকশা চিহ্নিত করা দরকার। এতে বাইরের অটোরিকশা শহরে ঢুকতে পারবে না। তখন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের কাজ করতে সুবিধা হবে। বিষয়টি একাধিকবার পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।"

এ বিষয়ে লাকসাম পৌরসভা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, "বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। যানজট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা হয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হবে।"


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত