ঢাকা    শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সবুজ পত্র

নারী নির্যাতন

যুবদল নেতার হাতে পরিবার পরিকল্পনার মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী শ্লীলতাহানির শিকার!

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বোরকা পড়ে স্বাস্থ্য কার্যক্রম চালানোর সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের মহিলা স্বেচ্ছাসেবীকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ উঠছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এসময় স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবী মহিলার শিশুকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের মেষতলা গ্রামের মোঃ শাহ আলমের স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন আলো (৪৩)। অভিযুক্ত যুবদল নেতা ফিরোজ মিয়া (৪৮) উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক। জানা যায়, বুধবার (২৮শে জানুয়ারী) সকালে ভুক্তভোগী নারী জরিপ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মেষতলা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে নব-দম্পত্তি, কিশোর-কিশোরী ও নবজাতকের সংখ্যার তথ্য সংগ্রহ করেন। গ্রামের জনৈক মোস্তফা মিয়ার বাড়ির তথ্য সংগ্রহের সময় ফিরোজ সাবিয়া ইয়াছমিনকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল গালাগাল করে। এসময় ভুক্তভোগী নারী প্রতিবাদ করলে তাকে টেনে হিছড়ে ঘর থেকে বের করে ফেলে। একপর্যায়ে মহিলার পড়নে থাকা বোরকা খুলে ফেলার চেষ্টা করে। এসময় ইজ্জত রক্ষার্থে ভুক্তভোগী স্বাস্থ্যকর্মী চেষ্টা করলে ফিরোজের সাথে ধস্তাধস্তি হয়। পরে মহিলার চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী স্বাস্থ্যকর্মী আরও জানান, কোন ধরনের কারণ এবং পূর্বশত্রুতা ব্যতিত তার সাথে এমন নেক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে ফিরোজ মিয়া। স্থানীয়রা উদ্ধারের সময় সে (ফিরোজ মিয়া) আমার গায়ের কাপড় খুলে নেয়া, বে-ইজ্জতি করা এবং হাত-পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। আমি বর্তমানে আমার শিশু সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। চৌদ্দগ্রাম থানার এস আই আরেফিন সিদ্দিকী জানান, ভুক্তভোগী স্বাস্থ্যকর্মী নারীকে শ্লীলতাহানির ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করি। চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) গুলজার আলম জানান, এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তদন্ত স্বাপেক্ষে ঘটনা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যুবদল নেতার হাতে পরিবার পরিকল্পনার মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী শ্লীলতাহানির শিকার!