জরাজীর্ণ ১৯টি বেইলি সেতু কুমিল্লার ১৯টি বেইলি সেতুর জরাজীর্ন অবস্থা। এর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো সেতুগুলো মাঝেমাঝে ভেঙে পড়ে। প্রতি বছরই বেইলি সেতু ভেঙে পড়ার খবর আসে গণমাধ্যমে।
একাধিকবার সেখানে গার্ডার ব্রিজের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অধিকাংশ সেতুর অবস্থান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায়। বাকিগুলো দেবিদ্বার, সদর, লাকসাম ও নাঙ্গলকোটে।
বেশির ভাগ বেইলি সেতু সড়ক বিভাগের আওতাধীন। কিছু আছে এলজিইডির।
সরেজমিন দেখা যায়, কোনো কোনো সেতুর সামনে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। পাঁচ টনের বেশি পণ্য পরিবহন নিষেধ।
’ সড়ক বিভাগের এমন সাইনবোর্ড লাগানো। সেখানে ১০ টনের বেশি পরিবহনও চলছে। সেতুগুলোতে হাঁটলেও নড়ে ওঠে। কিছু সেতুর পাটাতন ফাঁক হয়ে আছে। এ ছাড়া সরু হওয়ায় সেখানে সারা দিন যানজট লেগে থাকে।
একদিকে যানবাহন পার হলে অন্যদিকেরগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। এ দৃশ্য দেখা গেছে সদর উপজেলার চাঁনপুরে গোমতী নদীর ওপর সেতু ও মুরাদনগরের মেটংঘর সেতুতে। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে ভেঙে পড়ে মুরানগরের কড়ইবাড়ি ব্রিজ।
সেতুসংলগ্ন মেটংঘর বাজারের ব্যবসায়ী মো. হেলাল বলেন, প্রত্যেক বছরই এটি ভেঙে পড়ে। মানুষ নিহত ও আহত হন। কয়েক মাস আগেও পণ্যবোঝাই ট্রাকসহ সেতু ভেঙে পড়েছে। কড়ইবাড়ি এলাকার অটোরিকশাচালক শাহীন মিয়া ও সাকিবুল হাসান জানান, এ সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় এটি কাঁপে। দোয়া কালাম পড়ে পার হই। এখানে পাকা সেতু প্রয়োজন।
চাঁনপুর এলাকার খোরশেদ আলম বলেন, গোমতী নদীর ওপর চাঁনপুর সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি দিয়ে কুমিল্লার তিন উপজেলাসহ পাশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়ও মানুষ যাতায়াত করেন। এটি সরু হওয়ায় প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এখানে গার্ডার সেতু সময়ের দাবি। কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, বেইলি সেতুগুলো ধীরে ধীরে গার্ডার সেতুতে রূপান্তর হবে। ইতোমধ্যে ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কে দুই গার্ডার সেতুতে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে।
ঝুঁকিপূণ বেইলি সেতুর মধ্যে রয়েছে- মুরাদনগরের রাজা চাপিতলা-রামচন্দ্রপুর-পাঁচকিত্তা সড়কে ব্রাহ্মণ চাপিতলা ও মির্জাপুর সেতু, কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কে দৌলতপুর, মুকলিশপুরের মাতনঘর ও কড়ইবাড়ি সেতু। চান্দিনা-দেবিদ্বার সড়কে নবীয়াবাদে তিনটি। নিমসার-কংশনগর-বুড়িচং সড়কে তালতলা সেতু। চৌদ্দগ্রাম-লাকসাম সড়কে পরিকোট, কাদ্রা ও লাকসাম সেতু। লাকসাম-মুদাফফরগঞ্জ সড়কে খুন্তা সেতু। কুমিল্লা-কসবা সড়কে চাঁনপুর সেতু। দেবিদ্বারের কালিকাপুর-এগারগ্রাম সড়কে গোমতী নদীর ওপর এলজিইডির একটি ও দাউদকান্দির পীতাম্বরদি ও কদমতলীতে দুটি।

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
জরাজীর্ণ ১৯টি বেইলি সেতু কুমিল্লার ১৯টি বেইলি সেতুর জরাজীর্ন অবস্থা। এর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো সেতুগুলো মাঝেমাঝে ভেঙে পড়ে। প্রতি বছরই বেইলি সেতু ভেঙে পড়ার খবর আসে গণমাধ্যমে।
একাধিকবার সেখানে গার্ডার ব্রিজের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অধিকাংশ সেতুর অবস্থান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায়। বাকিগুলো দেবিদ্বার, সদর, লাকসাম ও নাঙ্গলকোটে।
বেশির ভাগ বেইলি সেতু সড়ক বিভাগের আওতাধীন। কিছু আছে এলজিইডির।
সরেজমিন দেখা যায়, কোনো কোনো সেতুর সামনে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। পাঁচ টনের বেশি পণ্য পরিবহন নিষেধ।
’ সড়ক বিভাগের এমন সাইনবোর্ড লাগানো। সেখানে ১০ টনের বেশি পরিবহনও চলছে। সেতুগুলোতে হাঁটলেও নড়ে ওঠে। কিছু সেতুর পাটাতন ফাঁক হয়ে আছে। এ ছাড়া সরু হওয়ায় সেখানে সারা দিন যানজট লেগে থাকে।
একদিকে যানবাহন পার হলে অন্যদিকেরগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। এ দৃশ্য দেখা গেছে সদর উপজেলার চাঁনপুরে গোমতী নদীর ওপর সেতু ও মুরাদনগরের মেটংঘর সেতুতে। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে ভেঙে পড়ে মুরানগরের কড়ইবাড়ি ব্রিজ।
সেতুসংলগ্ন মেটংঘর বাজারের ব্যবসায়ী মো. হেলাল বলেন, প্রত্যেক বছরই এটি ভেঙে পড়ে। মানুষ নিহত ও আহত হন। কয়েক মাস আগেও পণ্যবোঝাই ট্রাকসহ সেতু ভেঙে পড়েছে। কড়ইবাড়ি এলাকার অটোরিকশাচালক শাহীন মিয়া ও সাকিবুল হাসান জানান, এ সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় এটি কাঁপে। দোয়া কালাম পড়ে পার হই। এখানে পাকা সেতু প্রয়োজন।
চাঁনপুর এলাকার খোরশেদ আলম বলেন, গোমতী নদীর ওপর চাঁনপুর সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি দিয়ে কুমিল্লার তিন উপজেলাসহ পাশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়ও মানুষ যাতায়াত করেন। এটি সরু হওয়ায় প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এখানে গার্ডার সেতু সময়ের দাবি। কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, বেইলি সেতুগুলো ধীরে ধীরে গার্ডার সেতুতে রূপান্তর হবে। ইতোমধ্যে ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কে দুই গার্ডার সেতুতে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে।
ঝুঁকিপূণ বেইলি সেতুর মধ্যে রয়েছে- মুরাদনগরের রাজা চাপিতলা-রামচন্দ্রপুর-পাঁচকিত্তা সড়কে ব্রাহ্মণ চাপিতলা ও মির্জাপুর সেতু, কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কে দৌলতপুর, মুকলিশপুরের মাতনঘর ও কড়ইবাড়ি সেতু। চান্দিনা-দেবিদ্বার সড়কে নবীয়াবাদে তিনটি। নিমসার-কংশনগর-বুড়িচং সড়কে তালতলা সেতু। চৌদ্দগ্রাম-লাকসাম সড়কে পরিকোট, কাদ্রা ও লাকসাম সেতু। লাকসাম-মুদাফফরগঞ্জ সড়কে খুন্তা সেতু। কুমিল্লা-কসবা সড়কে চাঁনপুর সেতু। দেবিদ্বারের কালিকাপুর-এগারগ্রাম সড়কে গোমতী নদীর ওপর এলজিইডির একটি ও দাউদকান্দির পীতাম্বরদি ও কদমতলীতে দুটি।

আপনার মতামত লিখুন