ঢাকা    শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সবুজ পত্র

নাঙ্গলকোট পৌরসভা নামেই ১ম শ্রেণীর পৌরসভা সর্বত্র রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, যত্রযত্র ময়লার ভাগাড়, পৌরপার্ক ও কবরস্থান নেই



নাঙ্গলকোট পৌরসভা নামেই ১ম শ্রেণীর পৌরসভা সর্বত্র রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, যত্রযত্র ময়লার ভাগাড়, পৌরপার্ক ও কবরস্থান নেই

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভা নামেই ১ম শ্রেণীর পৌরসভা। ১ম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২৩ বছরেও পৌরবাসী কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। পৌরবাসীকে নাগরিক সেবার বদলে অতিরিক্ত করের বোঝা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে পৌর মেয়ররা বড় ধরণের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করলেও পৌরবাসী কাঙ্খিত সেবা পায়নি। বিগত বছরগুলোতে উন্নয়নের নামে সর্বত্র লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভায় লাইটিং ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই। পৌরসভার সর্বত্র রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। বেহাল সড়কের খানা-খন্দকে কাঁদা পানি মাড়িয়ে পৌরবাসীকে নিয়মিত যাতায়াত করতে গিয়ে নাকাল হতে হচ্ছে।

সাবেক পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে পৌর বাজার ইজারায় খাস আদায়ের নামে কোটি-কোটি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভায় লাইটিং ব্যবস্থার নামে লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্নস্থানে লাইটিং এর খাম্বার জন্য বেইস ঢালাই দেওয়া হলেও লাইটিং ব্যবস্থা নেই। পৌরসভায় বিভিন্ন পদে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দিয়ে মাথাভারী প্রশাসন সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সাবেক মেয়র আব্দুল মালেকের একান্ত আস্থাভাজন ৬/৭জন কর্মচারী ছাড়া অধিকাংশ কর্মচারীর ২৭ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে মানববেতর জীবন-যাপন করলেও মেয়র আব্দুল মালেকের নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ ছিল না। আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ১০ জন কর্মচারী নিয়োগের নামে লক্ষ-লক্ষ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগকৃত কর্মচারীদের অনেকের কাজ না থাকায় পৌরসভার তহবিল থেকে তাদের বসিয়ে-বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৪৬ জন কর্মকর্তা/কর্মচারীর বিশাল বহর পৌরসভায় নিয়োগ রয়েছে।

জানা যায়, পৌরসভায় পৌর পার্ক, পৌর কবরস্থান, খেলার মাঠ, সৌন্দর্যবর্ধন, কসাইখানা বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট কোন স্থানও নেই। ফলে যত্রতত্র সড়কের পাশে বর্জ্য পেলায় সড়কে চলাচলকারী পৌরবাসীসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং ছোট-বড় পরিবহনের যাত্রীদের দমবন্ধ পরিবেশে চলতে হচ্ছে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন আশে-পাশের বাসিন্দারা।

 পৌরসভায় কোন বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা স্ট্যান্ড নেই। বিভিন্ন সড়কের পাশে বাস, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা স্ট্যান্ড থাকায় প্রতিনিয়ত যানজটে পৌরবাসীকে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পৌরসভার সর্বত্র অপরিকল্পিত উন্নয়নের নামে লক্ষ-লক্ষ টাকা লোপাট করা হয়েছে। পৌর বাজারের কাজী মার্কেট সংলগ্ন রেললাইনের পাশে সৌন্দর্য বর্ধনে পানির ফোয়ারা এবং ফুল গাছ রোপণ করা হলেও ফুল গাছগুলো লতাগুল্মে জড়িয়ে থাকায় সৌন্দর্যহানি ঘটছে। পানি ফোয়ারাটি শুরু থেকে চালু করা সম্ভব হয়নি। অবহেলা অযত্নে পড়ে আছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর অফিস থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত নির্মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাটিও পরিপূর্ণভাবে নির্মাণ করা হয়নি। বিভিন্নস্থানে অসমাপ্ত কাজের কারণে ড্রেনের রড বের হয়ে থাকতে দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে ড্রেন থাকলেও ড্রেনের পানি সরানোর কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে ড্রেনের পানি বিভিন্ন সড়কে পড়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এলাকাবাসীকে ময়লা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়।

পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক আরসিসি ঢালাইয়ের নামে নিম্নমানের কাজের কারণে সড়ক নির্মাণের ৬ মাসের মধ্যে বিভিন্ন সড়ক ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নাঙ্গলকোট-বাঙ্গড্ডা সড়কের নাঙ্গলকোট উত্তর পাড়া হয়ে বেসরকারি আল্টা মর্ডাণ হাসপাতাল পর্যন্ত বাইপাস আরসিসি ঢালাই সড়কটি নিম্নমানের কাজের কারণে নির্মাণের ৬মাসের মধ্যে সড়টির বিভিন্নস্থানে ভেঙ্গে যায়। গত প্রায় ৩বছর থেকে এলাকাবাসীকে ভেঙ্গে যাওয়া সড়কটি দিয়ে ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। হরিপুর দক্ষিণপাড়া খলিফা বাড়ি সংলগ্ন সড়কটি গত প্রায় ২বছর পর্যন্ত ছোট-বড় খানা-খন্দকে বেহাল দশা বিরাজ করছে। সড়কটি দিয়ে ছোট-বড় যানবাহনসহ পথচারীদের চলাচলে খানা-খন্দকের পানি মাড়িয়ে ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড দৌলখাঁড় সড়ক থেকে দাউদপুর শাহী ঈদগাহ হয়ে মাস্টার আনিসুল হকের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কে ইট, সুরকি এবং পিছ উঠে গত ১০ বছর ধরে বেহাল দশা বিরাজ করছে। সড়কটি দিয়ে হেঁটেও যাতায়াত করা যায় না।

পৌরসভার বাজেটে মশক নিধনে লক্ষ-লক্ষ টাকা বরাদ্ধ থাকলেও মশক নিধন ব্যাবস্থা নেই। পৌরসভার সর্বত্র সোলার লাইটিং ব্যবস্থার জন্য লক্ষ-লক্ষ টাকা ব্যয় করে লাইটিং ব্যবস্থা করলেও প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বত্র লাইটিং ব্যবস্থা অকেজো অবস্থায় রয়েছে। পৌরসভায় কোন সৌন্দর্যবর্ধন স্থান নেই। পৌরবাসীর সকাল-বিকাল হাঁটা এবং নির্মল বাতাস গ্রহণের কোন ব্যবস্থা নেই।

পৌর বাজার হকার এবং ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। ভ্রাম্যমান হকারদের দোকানপাট এবং ব্যবসায়ীরা সড়কের পাশে মালামাল রাখায় পৌরবাজারের সড়ক দিয়ে হাঁটা এবং ছোট-বড় যানবাহান চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অবাধে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, মিশুকের চলাচল এবং যত্রতত্র অটোরিক্সা ও মিশুক দাঁড়িয়ে থাকার কারণে পৌরবাজার যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। 

বিশেষ করে পৌরবাজারের রেলগেইট, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বটতলা মোড় এবং নাঙ্গলকোট আফছারুল উলুম সড়ক, পৌরবাজার রেলগেইটে ঝুঁকিপূর্ণ মাছ, তরকারির বাজার এবং ফল দোকান হওয়ায় স্থানগুলোতে যানজট সবসময় লেগেই থাকে। বটতলা এলাকায় নাঙ্গলকোট থেকে কুমিল্লায় চলাচলকারী সুপার সার্ভিসের বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা এবং গাড়ি গুরানোর কারণে বটতলায় সবসময় যানজট লেগেই থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পৌর বাজারের সাপ্তাহিক, তোহা বাজার, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী, মাছ, চারা বাজার, কসাইখানা, গণশৌচাগার, ৪টি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা স্ট্যান্ড, পানের মহালসহ ১৭টি খাতের ইজারায় খাস কালেকশানের নামে গত সাড়ে সাত বছরে সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল মালেকসহ তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।  খাস কালেকশান হচ্ছে, সাবেক পৌর মেয়র এবং তার সিন্ডিকেটের লোকজনের পৌর বাজার ইজারার সিডিউলে অতিরিক্ত দর দেওয়া। ওই দরে কেউ বাজার ইজারায় ডাকে অংশগ্রহন করতো না। পরে কেউ ডাক না দেওয়ায় খাস কালেকশান দেখানো হয়। এতে করে সাবেক মেয়র তার সিন্ডিকেটের লোকজনকে অবৈধভাবে বাজার ইজারা দেওয়া হয়। বাজার ইজারায় ১৭টি খাতসহ তোহা ও সাপ্তাহিক বাজারের যে টাকা উঠানো হতো তার নামমাত্র টাকা পৌরসভার ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দিয়ে সাবেক মেয়র আব্দুল মালেকসহ তার সিন্ডিকেটের লোকজন অবশিষ্ট বিপুল অংকের টাকা ভাগ-ভাটোয়ারা করে নিতেন। এতে করে গত সাড়ে সাত বছরেও পৌর মেয়র আব্দুল মালেকসহ তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের ৫আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর পৌর মেয়র আব্দুল মালেকও গা ডাকা দেন। এ ফাঁকে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খাস কালেকশান অবৈধ হওয়ায় পৌর বাজার ডাকের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা আবার পৌর বাজার ইজারার ডাকের সিডিউল ছাড়েন।

সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল মালেক গত সাড়ে সাত বছরে ১০জন কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করেন। তার বিরুদ্ধে এই ১০জন কর্মচারী  থেকে প্রায় ৫০লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ইশরাত জাহান নামে একজনকে পাম্প চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও পৌরসভায় এখনো পাম্পই বসানো হয়নি। তাকে বসিয়ে-বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে। তার বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়। সোহেল রানা নামে একজনকে বিদ্যুতের হেলপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও সে বিদ্যুতের কিছুই জানে না। অফিস সহায়ক হিসেবে রহিমা নামে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার বাড়ি লাকসাম। মেয়র আবদুল মালেকের দুর সম্পর্কের আত্মীয়। মেয়রের ভাগিনা নিজাম উদ্দিন কালুকে টিকাদানকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইউছুফ নবী নামে একজনকে জীপ চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ পৌরসভায় কোন জীপ নেই। এমনটি ইউছুফ নবীর ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। তাকে বসিয়ে-বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে।

পৌরসভায় সড়ক বাতি সোলার লাইট বসানোতে বড় ধরণের দূর্ণীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের প্রতিটি সোলার লাইটের দাম ২২ হাজার টাকা হলেও টেন্ডারে দেখানো হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। ৬মাসের মধ্যে অধিকাংশ সোলার লাইট নষ্টসহ অনেক জায়গায় সোলার লাইটের খাম্বা পর্যন্ত নেই। এছাড়া বিভিন্নস্থানে সোলার লাইটের জন্য বেইস ঢালাই দেওয়া হলেও সোলার লাইট না বসিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এধরণের ১শ লাইট স্থাপনের জন্য বেইস ঢালাই দিলেও সোলার লাইট না বসিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। হরিপুর পশ্চিমপাড়া কাজী রিয়াজদের মসজিদের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে সোলার লাইটের বেইস ঢালাই দেওয়া হলেও গত তিন বছরেও সোলার লাইট বসানো হয়নি। হরিপুর উত্তর পাড়া সাবেক কাউন্সিলর বাহারদের মসজিদের পিছনে সোলার লাইটের বেইস ঢালাই দেওয়া হলেও এলাকাবাসী সোলার লাইটই দেখেনি।

জানা যায়, সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল মালেক ২০১৬ সালের ৫ মার্চ ১মবার মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরে ২০২১ সালে ২১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার পৌরমেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৫আগষ্টের পর থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড দাউদপুর গ্রামের মোশারফ হোসেন বলেন, দৌলখাঁড় সড়ক থেকে দাউদপুর শাহী ঈদগাহ হয়ে মাস্টার আনিছুল হকের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক গত ১০ বছর ধরে বেহাল দশা বিরাজ করছে। সড়কটিতে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় অসংখ্য খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি দিয়ে হেঁটেও চলাচল করা যায় না। তিনি আরো বলেন, পৌরসভায় লাইটিং ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। পৌরসভার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্যাক্স বাড়লেও পৌর নাগরিকদের তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি।

পৌরসভার চৌগুরী  গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, বিগত বছরগুলোতে পৌরসভার পৌর বাজারের ইজারার নামে খাস কালেকশান  এবং সোলার লাইটের নামে কোটি-কোটি টাকা লুটপাটসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের নামে যে বিপুল পরিমাণ টাকা লুটপাট হয়েছে। সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

পৌরসভার প্রধান নির্বাহী মোসাম্মত জুবাইয়া ইয়াসমীন বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পৌর শাখা-২ এর আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন রাস্তা মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। তবে ৬/৭ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। পৌরসভার নিজস্ব জমি না থাকায় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, পৌরসভার রাজস্ব আয় বৃদ্ধি না হওয়ায় পৌরসভার বর্জ্য ফেলার সম্পত্তি ক্রয়, বাস, সিএনজি চালিত অটোরিক্সার স্ট্যান্ড নির্মাণ, পৌর পার্ক ও পৌর কবরস্থানের জন্য জমি ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পৌরসভার আয় বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে। পৌরসভার সক্ষমতা বৃদ্ধি ফেলে পৌরসভার বিভিন্ন সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


নাঙ্গলকোট পৌরসভা নামেই ১ম শ্রেণীর পৌরসভা সর্বত্র রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, যত্রযত্র ময়লার ভাগাড়, পৌরপার্ক ও কবরস্থান নেই

প্রকাশের তারিখ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভা নামেই ১ম শ্রেণীর পৌরসভা। ১ম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২৩ বছরেও পৌরবাসী কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। পৌরবাসীকে নাগরিক সেবার বদলে অতিরিক্ত করের বোঝা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে পৌর মেয়ররা বড় ধরণের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করলেও পৌরবাসী কাঙ্খিত সেবা পায়নি। বিগত বছরগুলোতে উন্নয়নের নামে সর্বত্র লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভায় লাইটিং ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই। পৌরসভার সর্বত্র রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। বেহাল সড়কের খানা-খন্দকে কাঁদা পানি মাড়িয়ে পৌরবাসীকে নিয়মিত যাতায়াত করতে গিয়ে নাকাল হতে হচ্ছে।

সাবেক পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে পৌর বাজার ইজারায় খাস আদায়ের নামে কোটি-কোটি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভায় লাইটিং ব্যবস্থার নামে লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্নস্থানে লাইটিং এর খাম্বার জন্য বেইস ঢালাই দেওয়া হলেও লাইটিং ব্যবস্থা নেই। পৌরসভায় বিভিন্ন পদে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দিয়ে মাথাভারী প্রশাসন সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সাবেক মেয়র আব্দুল মালেকের একান্ত আস্থাভাজন ৬/৭জন কর্মচারী ছাড়া অধিকাংশ কর্মচারীর ২৭ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে মানববেতর জীবন-যাপন করলেও মেয়র আব্দুল মালেকের নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ ছিল না। আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ১০ জন কর্মচারী নিয়োগের নামে লক্ষ-লক্ষ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগকৃত কর্মচারীদের অনেকের কাজ না থাকায় পৌরসভার তহবিল থেকে তাদের বসিয়ে-বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৪৬ জন কর্মকর্তা/কর্মচারীর বিশাল বহর পৌরসভায় নিয়োগ রয়েছে।

জানা যায়, পৌরসভায় পৌর পার্ক, পৌর কবরস্থান, খেলার মাঠ, সৌন্দর্যবর্ধন, কসাইখানা বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট কোন স্থানও নেই। ফলে যত্রতত্র সড়কের পাশে বর্জ্য পেলায় সড়কে চলাচলকারী পৌরবাসীসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং ছোট-বড় পরিবহনের যাত্রীদের দমবন্ধ পরিবেশে চলতে হচ্ছে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন আশে-পাশের বাসিন্দারা।

 পৌরসভায় কোন বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা স্ট্যান্ড নেই। বিভিন্ন সড়কের পাশে বাস, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা স্ট্যান্ড থাকায় প্রতিনিয়ত যানজটে পৌরবাসীকে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পৌরসভার সর্বত্র অপরিকল্পিত উন্নয়নের নামে লক্ষ-লক্ষ টাকা লোপাট করা হয়েছে। পৌর বাজারের কাজী মার্কেট সংলগ্ন রেললাইনের পাশে সৌন্দর্য বর্ধনে পানির ফোয়ারা এবং ফুল গাছ রোপণ করা হলেও ফুল গাছগুলো লতাগুল্মে জড়িয়ে থাকায় সৌন্দর্যহানি ঘটছে। পানি ফোয়ারাটি শুরু থেকে চালু করা সম্ভব হয়নি। অবহেলা অযত্নে পড়ে আছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর অফিস থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত নির্মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাটিও পরিপূর্ণভাবে নির্মাণ করা হয়নি। বিভিন্নস্থানে অসমাপ্ত কাজের কারণে ড্রেনের রড বের হয়ে থাকতে দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে ড্রেন থাকলেও ড্রেনের পানি সরানোর কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে ড্রেনের পানি বিভিন্ন সড়কে পড়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এলাকাবাসীকে ময়লা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়।

পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক আরসিসি ঢালাইয়ের নামে নিম্নমানের কাজের কারণে সড়ক নির্মাণের ৬ মাসের মধ্যে বিভিন্ন সড়ক ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নাঙ্গলকোট-বাঙ্গড্ডা সড়কের নাঙ্গলকোট উত্তর পাড়া হয়ে বেসরকারি আল্টা মর্ডাণ হাসপাতাল পর্যন্ত বাইপাস আরসিসি ঢালাই সড়কটি নিম্নমানের কাজের কারণে নির্মাণের ৬মাসের মধ্যে সড়টির বিভিন্নস্থানে ভেঙ্গে যায়। গত প্রায় ৩বছর থেকে এলাকাবাসীকে ভেঙ্গে যাওয়া সড়কটি দিয়ে ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। হরিপুর দক্ষিণপাড়া খলিফা বাড়ি সংলগ্ন সড়কটি গত প্রায় ২বছর পর্যন্ত ছোট-বড় খানা-খন্দকে বেহাল দশা বিরাজ করছে। সড়কটি দিয়ে ছোট-বড় যানবাহনসহ পথচারীদের চলাচলে খানা-খন্দকের পানি মাড়িয়ে ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড দৌলখাঁড় সড়ক থেকে দাউদপুর শাহী ঈদগাহ হয়ে মাস্টার আনিসুল হকের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কে ইট, সুরকি এবং পিছ উঠে গত ১০ বছর ধরে বেহাল দশা বিরাজ করছে। সড়কটি দিয়ে হেঁটেও যাতায়াত করা যায় না।

পৌরসভার বাজেটে মশক নিধনে লক্ষ-লক্ষ টাকা বরাদ্ধ থাকলেও মশক নিধন ব্যাবস্থা নেই। পৌরসভার সর্বত্র সোলার লাইটিং ব্যবস্থার জন্য লক্ষ-লক্ষ টাকা ব্যয় করে লাইটিং ব্যবস্থা করলেও প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বত্র লাইটিং ব্যবস্থা অকেজো অবস্থায় রয়েছে। পৌরসভায় কোন সৌন্দর্যবর্ধন স্থান নেই। পৌরবাসীর সকাল-বিকাল হাঁটা এবং নির্মল বাতাস গ্রহণের কোন ব্যবস্থা নেই।

পৌর বাজার হকার এবং ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। ভ্রাম্যমান হকারদের দোকানপাট এবং ব্যবসায়ীরা সড়কের পাশে মালামাল রাখায় পৌরবাজারের সড়ক দিয়ে হাঁটা এবং ছোট-বড় যানবাহান চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অবাধে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, মিশুকের চলাচল এবং যত্রতত্র অটোরিক্সা ও মিশুক দাঁড়িয়ে থাকার কারণে পৌরবাজার যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। 

বিশেষ করে পৌরবাজারের রেলগেইট, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বটতলা মোড় এবং নাঙ্গলকোট আফছারুল উলুম সড়ক, পৌরবাজার রেলগেইটে ঝুঁকিপূর্ণ মাছ, তরকারির বাজার এবং ফল দোকান হওয়ায় স্থানগুলোতে যানজট সবসময় লেগেই থাকে। বটতলা এলাকায় নাঙ্গলকোট থেকে কুমিল্লায় চলাচলকারী সুপার সার্ভিসের বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা এবং গাড়ি গুরানোর কারণে বটতলায় সবসময় যানজট লেগেই থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পৌর বাজারের সাপ্তাহিক, তোহা বাজার, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী, মাছ, চারা বাজার, কসাইখানা, গণশৌচাগার, ৪টি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা স্ট্যান্ড, পানের মহালসহ ১৭টি খাতের ইজারায় খাস কালেকশানের নামে গত সাড়ে সাত বছরে সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল মালেকসহ তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।  খাস কালেকশান হচ্ছে, সাবেক পৌর মেয়র এবং তার সিন্ডিকেটের লোকজনের পৌর বাজার ইজারার সিডিউলে অতিরিক্ত দর দেওয়া। ওই দরে কেউ বাজার ইজারায় ডাকে অংশগ্রহন করতো না। পরে কেউ ডাক না দেওয়ায় খাস কালেকশান দেখানো হয়। এতে করে সাবেক মেয়র তার সিন্ডিকেটের লোকজনকে অবৈধভাবে বাজার ইজারা দেওয়া হয়। বাজার ইজারায় ১৭টি খাতসহ তোহা ও সাপ্তাহিক বাজারের যে টাকা উঠানো হতো তার নামমাত্র টাকা পৌরসভার ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দিয়ে সাবেক মেয়র আব্দুল মালেকসহ তার সিন্ডিকেটের লোকজন অবশিষ্ট বিপুল অংকের টাকা ভাগ-ভাটোয়ারা করে নিতেন। এতে করে গত সাড়ে সাত বছরেও পৌর মেয়র আব্দুল মালেকসহ তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের ৫আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর পৌর মেয়র আব্দুল মালেকও গা ডাকা দেন। এ ফাঁকে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খাস কালেকশান অবৈধ হওয়ায় পৌর বাজার ডাকের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা আবার পৌর বাজার ইজারার ডাকের সিডিউল ছাড়েন।

সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল মালেক গত সাড়ে সাত বছরে ১০জন কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করেন। তার বিরুদ্ধে এই ১০জন কর্মচারী  থেকে প্রায় ৫০লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ইশরাত জাহান নামে একজনকে পাম্প চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও পৌরসভায় এখনো পাম্পই বসানো হয়নি। তাকে বসিয়ে-বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে। তার বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়। সোহেল রানা নামে একজনকে বিদ্যুতের হেলপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও সে বিদ্যুতের কিছুই জানে না। অফিস সহায়ক হিসেবে রহিমা নামে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার বাড়ি লাকসাম। মেয়র আবদুল মালেকের দুর সম্পর্কের আত্মীয়। মেয়রের ভাগিনা নিজাম উদ্দিন কালুকে টিকাদানকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইউছুফ নবী নামে একজনকে জীপ চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ পৌরসভায় কোন জীপ নেই। এমনটি ইউছুফ নবীর ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। তাকে বসিয়ে-বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে।

পৌরসভায় সড়ক বাতি সোলার লাইট বসানোতে বড় ধরণের দূর্ণীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের প্রতিটি সোলার লাইটের দাম ২২ হাজার টাকা হলেও টেন্ডারে দেখানো হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। ৬মাসের মধ্যে অধিকাংশ সোলার লাইট নষ্টসহ অনেক জায়গায় সোলার লাইটের খাম্বা পর্যন্ত নেই। এছাড়া বিভিন্নস্থানে সোলার লাইটের জন্য বেইস ঢালাই দেওয়া হলেও সোলার লাইট না বসিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এধরণের ১শ লাইট স্থাপনের জন্য বেইস ঢালাই দিলেও সোলার লাইট না বসিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। হরিপুর পশ্চিমপাড়া কাজী রিয়াজদের মসজিদের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে সোলার লাইটের বেইস ঢালাই দেওয়া হলেও গত তিন বছরেও সোলার লাইট বসানো হয়নি। হরিপুর উত্তর পাড়া সাবেক কাউন্সিলর বাহারদের মসজিদের পিছনে সোলার লাইটের বেইস ঢালাই দেওয়া হলেও এলাকাবাসী সোলার লাইটই দেখেনি।

জানা যায়, সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল মালেক ২০১৬ সালের ৫ মার্চ ১মবার মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরে ২০২১ সালে ২১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার পৌরমেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৫আগষ্টের পর থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড দাউদপুর গ্রামের মোশারফ হোসেন বলেন, দৌলখাঁড় সড়ক থেকে দাউদপুর শাহী ঈদগাহ হয়ে মাস্টার আনিছুল হকের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক গত ১০ বছর ধরে বেহাল দশা বিরাজ করছে। সড়কটিতে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় অসংখ্য খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি দিয়ে হেঁটেও চলাচল করা যায় না। তিনি আরো বলেন, পৌরসভায় লাইটিং ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। পৌরসভার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্যাক্স বাড়লেও পৌর নাগরিকদের তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি।

পৌরসভার চৌগুরী  গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, বিগত বছরগুলোতে পৌরসভার পৌর বাজারের ইজারার নামে খাস কালেকশান  এবং সোলার লাইটের নামে কোটি-কোটি টাকা লুটপাটসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের নামে যে বিপুল পরিমাণ টাকা লুটপাট হয়েছে। সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

পৌরসভার প্রধান নির্বাহী মোসাম্মত জুবাইয়া ইয়াসমীন বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পৌর শাখা-২ এর আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন রাস্তা মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। তবে ৬/৭ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। পৌরসভার নিজস্ব জমি না থাকায় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, পৌরসভার রাজস্ব আয় বৃদ্ধি না হওয়ায় পৌরসভার বর্জ্য ফেলার সম্পত্তি ক্রয়, বাস, সিএনজি চালিত অটোরিক্সার স্ট্যান্ড নির্মাণ, পৌর পার্ক ও পৌর কবরস্থানের জন্য জমি ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পৌরসভার আয় বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে। পৌরসভার সক্ষমতা বৃদ্ধি ফেলে পৌরসভার বিভিন্ন সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত