ঢাকা    শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সবুজ পত্র

নাঙ্গলকোটের জুলাইযোদ্ধা সোলাইমান এখনো শরীরে একাধিক গুলি নিয়ে যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন



নাঙ্গলকোটের জুলাইযোদ্ধা সোলাইমান এখনো শরীরে একাধিক গুলি নিয়ে যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন

২০২৪ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে গুলিবিদ্ধ সোলাইয়ামের (৩৮) শরীরের বিভিন্নস্থানে এখনো কয়েকটি গুলি রয়েছে। গত প্রায় দেড় বছরেও শরীরের বিভিন্নস্থানের একাধিক গুলি থাকায় গুলি যন্ত্রণায় তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সোলাইমান কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভার গোত্রশাল গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে।

সোলাইমান জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন তুঙ্গে ওই সময় সোলাইমানসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতা সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকার নয়া পল্টন ভিআইপি সড়কের মসজিদ গলি এলাকায় জড়ো হন। এসময় আওয়ামীলীগের ক্যাডারবাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ সদস্যরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্র দিয়ে তাদের উপর অতর্কিতভাবে গুলি চালায়। তাদের গুলিতে অন্তঃত ১০/১২জন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের গুলি থেকে মসজিদের সাধারণ মুসল্লিরাও রক্ষা পায়নি। মসজিদের মুসল্লিরা পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে সোলাইমানের সাথে রাব্বানি নামে একজনও গুলিবিদ্ধ হয়। অন্য একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয়। অন্যদের সাথে সোলাইমানও  হাত এবং পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। এসময় গুলিতে সোলাইমানের হাত ও পিঠ রক্তে ভেসে যায়। স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় জনতা সোলাইমানকেও উদ্ধার করে ঢাকার বেসরকারি হাসপাতাল আনোয়ার খাঁন মর্ডান হাসপাতাল ও আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কোন হাসপাতাল তাকে চিকিৎসা দেয়নি।

 পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে রাত প্রায় ১১টার দিকে সোলাইমানকে ঢাকার নয়া পল্টনের ইসলামী ব্যাংক স্পেশালাইজড এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে ৭/৮টি গুলি বের করেন। পরে ঢাকার নিজ বাসায় দু‘দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর একদিন রাতের অন্ধকারে সোলাইমান দেশের বাড়ি নাঙ্গলকোটের গোত্রশাল চলে আসেন। বাড়ি এসে নাঙ্গলকোটের বেসরকারি পদ্মা হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাঃ মোঃ রকিবুল হাসানের তত্ত¡াবধানে চিকিৎসা নেন। ডাঃ রকিবুল হাসানও সোলাইমানের শরীর থেকে একাধিক গুলি বের করেন।

সোলাইমান আরো জানান, তার ডান হাতে এখনো একটি গুলি রয়েছে। গুলির যন্ত্রণায় তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ডান হাতে গুলি থাকায় তিনি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না। ডান হাতে গুলি থাকায় তার কাছে মনে হচ্ছে হাতের মধ্যে রড ঢুকে রয়েছে।

ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫আগষ্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশ এগিয়ে গেলেও গত প্রায় দেড় বছরেও সোলাইমান জুলাই যোদ্ধাহতের তালিকায় নাম উঠাতে পারেননি বলে জানান। তিনি জুলাই যুদ্ধাহতদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সবুজ পত্র

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


নাঙ্গলকোটের জুলাইযোদ্ধা সোলাইমান এখনো শরীরে একাধিক গুলি নিয়ে যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

২০২৪ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে গুলিবিদ্ধ সোলাইয়ামের (৩৮) শরীরের বিভিন্নস্থানে এখনো কয়েকটি গুলি রয়েছে। গত প্রায় দেড় বছরেও শরীরের বিভিন্নস্থানের একাধিক গুলি থাকায় গুলি যন্ত্রণায় তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সোলাইমান কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভার গোত্রশাল গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে।

সোলাইমান জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন তুঙ্গে ওই সময় সোলাইমানসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতা সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকার নয়া পল্টন ভিআইপি সড়কের মসজিদ গলি এলাকায় জড়ো হন। এসময় আওয়ামীলীগের ক্যাডারবাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ সদস্যরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্র দিয়ে তাদের উপর অতর্কিতভাবে গুলি চালায়। তাদের গুলিতে অন্তঃত ১০/১২জন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের গুলি থেকে মসজিদের সাধারণ মুসল্লিরাও রক্ষা পায়নি। মসজিদের মুসল্লিরা পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে সোলাইমানের সাথে রাব্বানি নামে একজনও গুলিবিদ্ধ হয়। অন্য একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয়। অন্যদের সাথে সোলাইমানও  হাত এবং পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। এসময় গুলিতে সোলাইমানের হাত ও পিঠ রক্তে ভেসে যায়। স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় জনতা সোলাইমানকেও উদ্ধার করে ঢাকার বেসরকারি হাসপাতাল আনোয়ার খাঁন মর্ডান হাসপাতাল ও আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কোন হাসপাতাল তাকে চিকিৎসা দেয়নি।

 পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে রাত প্রায় ১১টার দিকে সোলাইমানকে ঢাকার নয়া পল্টনের ইসলামী ব্যাংক স্পেশালাইজড এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে ৭/৮টি গুলি বের করেন। পরে ঢাকার নিজ বাসায় দু‘দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর একদিন রাতের অন্ধকারে সোলাইমান দেশের বাড়ি নাঙ্গলকোটের গোত্রশাল চলে আসেন। বাড়ি এসে নাঙ্গলকোটের বেসরকারি পদ্মা হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাঃ মোঃ রকিবুল হাসানের তত্ত¡াবধানে চিকিৎসা নেন। ডাঃ রকিবুল হাসানও সোলাইমানের শরীর থেকে একাধিক গুলি বের করেন।

সোলাইমান আরো জানান, তার ডান হাতে এখনো একটি গুলি রয়েছে। গুলির যন্ত্রণায় তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ডান হাতে গুলি থাকায় তিনি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না। ডান হাতে গুলি থাকায় তার কাছে মনে হচ্ছে হাতের মধ্যে রড ঢুকে রয়েছে।

ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫আগষ্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশ এগিয়ে গেলেও গত প্রায় দেড় বছরেও সোলাইমান জুলাই যোদ্ধাহতের তালিকায় নাম উঠাতে পারেননি বলে জানান। তিনি জুলাই যুদ্ধাহতদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।


সবুজ পত্র

প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা।

কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত