প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
নাঙ্গলকোট জেনারেল হাসপাতাল মালিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মচারীরাা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নাঙ্গলকোট জেনারেল হাসপাতাল মালিক কামরুল হোসাইন স্বপনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে রাখা এবং মানসিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত হাসপাতালটিতে কর্মরত অন্তত ৩০ জন কর্মচারী চাকুরি ছাড়ার পর তাদের বকেয়া বেতন না পেয়ে উল্টো অপমান ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন, পৌরসভার বাতুপাড়া গ্রামের নাসির উদ্দিন,কিশোরগঞ্জ জেলার বিন্নাটি গ্রামের নাজমুন্নাহার,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বারান পাড়া গ্রামের আইরিন খাতুন, নাঙ্গলকোটের শাকতুলী গ্রামের মিলন মিয়াজী, নাহিদুল ইসলাম ও পিন্টু বর্মন-সহ অনেকে।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। কেউ বেতন বাড়ানোর কথা বললে কিংবা পাওনা টাকা চাইলে মালিক পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অনেকের বেতন মাসের পর মাস আটকে রেখে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।অভ্যর্থনা বিভাগের সাবেক কর্মচারী নাসির উদ্দিন জানান, তিনি ২০২০ সাল থেকে মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। দীর্ঘদিন কাজ করলেও তার বেতন বাড়ানো হয়নি। পরে বেতন বৃদ্ধির দাবি করলে হাসপাতাল মালিক খারাপ আচরণ শুরু করেন।আরও বলেন,চাকরি ছাড়ার পর আমার এক মাসের বেতন আটকে রাখা হয়। বেতনের জন্য গেলে আবার চাকরিতে যোগ দিতে বলেন। তিনদিন কাজ করার পরও টাকা না দিয়ে উল্টো আমার ওপর চড়াও হন। বাধ্য হয়ে চলে আসি। এখনও আমার পাওনা টাকা পাইনি।সিনিয়র নার্স আইরিন খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তাকে নার্স হিসেবে নিয়োগ দিলেও প্রায়ই ওয়ার্ড বয়ের কাজ করানো হতো। দূরের জেলা থেকে এসে চাকুরি করায় নানা অনিয়ম সহ্য করতে হয়েছে। চাকুরি ছাড়তে চাইলে তার এক মাসের বেতন আটকে দেওয়া হয়।তিনি আরও বলেন,কিছুদিন আগে বেতনের জন্য গেলে হাসপাতাল মালিক স্বপনের সামনেই তার ছেলে আমাকে অপমান ও মানসিক নির্যাতন করেন। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। একজন নারী কর্মচারীর সঙ্গে এমন আচরণ খুবই দুঃখজনক।আরেক ভুক্তভোগী নাজমুন্নাহার বলেন,আমি নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। হাসপাতালের পরিবেশ ও আচরণ এতটাই খারাপ ছিল যে চাকুরি ছাড়তে বাধ্য হই। কিন্তু আমার এক মাসের বেতন আটকে রাখা হয়েছে। টাকা চাইতে গেলে গালমন্দ করা হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।তবে অভিযুক্ত হাসপাতাল মালিক কামরুল হোসাইন স্বপনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কর্মচারীদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অধিকার পরিষদ সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন, নাঙ্গলকোট জেনারেল হাসপাতাল থেকে আমার বেশ কিছু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও বিভিন্ন স্টাফগণ চাকুরি ছাড়ার পূর্বে বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে, চাকুরী ছাড়তে বাধ্য করে। পরবর্তীতে তাদের বকেয়া বেতন উত্তোলনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কামরুল হোসাইন স্বপনের সাথে যোগাযোগ করলে ভুক্তভোগীদেরকে নানাভাবে হয়রানি ও ভয় ভীতি দেখায়। আমি এই বকেয়া বেতন উত্তোলনের জন্য নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতি সভাপতি-সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলি এবং যোগাযোগ করি। সর্বশেষ নাঙ্গলকোট উপজেলার সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সাথে ও কথা বলি। আমার সদস্য ও বিভিন্ন স্টাফগণের বকেয়া বেতন যেন দ্রুত পরিশোধ করা হয়।
প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা। মোবাইল: ০১৭১১৯৫০০৪০, ই-মেইল: sobujpotra.info@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত