প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
সরকার দলীয় সাংসদ মোবাশ্বেরের আচরণ.বিএনপির জন্য বিষফোঁড়া হচ্ছে া
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
৫৮ মাস আমার ক্ষমতা আছে, আমি যেভাবে চাই সেভাবে চলতে হবে ! সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বিএনপি দলীয় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূইয়া, প্রশ্ন উঠেছে, সাংবাদিকরা তার কথা শুনতে বাধ্ ? নাঙ্গলকোটে কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকদের এমন হুমকি দেন কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) সংসদীয় আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন,আমি আপনাদের সহযোগিতায় এমপি হই নাই । গত ১৭ বছর আপনাদের কাউকে দেখি নাই। নাঙ্গলকোটকে নিয়ে একটি নিউজ করতে। সুতরাং ৫৮ মাস আমার ক্ষমতা আছে। আমি যেভাবে চাই। সেভাবে চলতে হবে। গত শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বি এন পি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ভাইকে সালামও দিয়েছি আবার একহাত ভরে দিয়েও দিয়েছি। নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সাথে ছবি দেখিয়ে তাকে বার-বার ফ্যাসিস্টের দোসর বলে আখ্যায়িত করেন। এনিয়ে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ দেননি বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান। সাংবাদিক মজিবুর রহমান মোল্লাকে তার নিকট ক্ষমা চাইতেও বলেন। এছাড়া অন্যান্য সাংবাদিকরাও কোন কথা বলতে চাইলে এমপি ধমক দিয়ে তাদেরকে থামিয়ে দেয়। তাদেরকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তার একক সিদ্ধান্ত তাদেরকে মানতে হবে বলে শাসান। তার শাসানো নিয়ে কেউ সংবাদ পরিবেশন করলে তাকেও দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।এসময় এমপি মোবাশ্বেরের পাশে বসে থাকা সাংবাদিক মাঈন উদ্দিন দুলালকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ওনিও তথাকথিত বিএনপি। আমি ৮ঘন্টা পর এমপি হওয়ার পথে। ওনি আমারে ফোন করেছেন হাদিয়ার লাই। মনির ফোন ধরে না। আমি ওইদিন থেকে নিজেকে বলছি। এর পর ওনাকে ব্লক মারছি। মনিরকে বলেছি ফোন যেন না ধরে । ওনি আমাকে ফোন করতে পারেন না। এছাড়া তার পাশে বসে থাকা অন্য দুই সাংবাদিক তাজুল ইসলাম ও কেফায়েত উল্লা মিয়াজীকে ইঙ্গিত করে বলেন , এইতো আমার পাশেদি এখানে জামায়াতের আড্ডাখানা আছে। আমি সব জেনেশুনে আজকে বিষপান করতে বসছি। সভায় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে করে আরও বলেন, এখানে একজন সাংবাদিকও কিছু লিখেনি। লিখলে নাঙ্গলকোটের বেহাল দশা থাকত না, আরও উন্নত হতো। একপর্যায়ে তিনি নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি ফ্যাসিস্টের দোসর। আপনার বিরুদ্ধে আমার নিকট অনেক অভিযোগ রয়েছে। আপনি আওয়ামীলীগ করে বিএনপি করেছেন। বি এন পি থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত সাবেক সংসদ সদস্য গফুর ভূঁইয়ার পারপাস সার্ভ করেছেন।গফুর ভূঁইয়াকে দিয়ে অনেক বেশি বেনিফিট হয়েছেন। আপনি ফ্যাসিস্টের দোসর। স্টেট। আই সি ইউ ফ্যাসিস্টের দোসর। আপনি চ্যালেঞ্জ করছেন? আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে। আমি ডকুমেন্ট নিয়ে কথা বলি। তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর কোন আওয়ামীলীগের লোকের সাথে আপোষ করি নাই। আজকে আপনার সঙ্গে কেন মিটিং করব। আমি মিটিং করতে অপারগ।তিনি বলেন, নঈম নিজাম (বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক) আমার চাচা। ওনিও ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে দেশ থেকে পালাইছেন। অনেক সাংবাদিক জেলে রয়েছে। আপনারা নাঙ্গলকোটে মায়ের কোলে আছেনতো। এজন্য আমাকে আন্ডার স্টিমেট করেন। নো আমি কোন ফ্যাসিস্টের দোসরের সাথে বসতে পারি না?মোবাশ্বের আলম বলেন, এরপরও আপনি আমাদের মাঝে আসছেন সুরসুড়ি দিতে। আমি এমপি হওয়ার পরও বিএনপির সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সাথে ছবি পোস্ট করছেন। গফুর ভূইয়াকে ব্যালেন্স করে স্কুলের সভাপতি হইছেন। থাকতে পারছেন সভাপতি? পারবেন না।সাংবাদিক মজিবুর রহমান মোল্লাকে সাংবাদিকতা থেকে বাদ দেয়ার উদ্দেশ্যে এমপি হুমকি দিয়ে বলেন, আমি চাইলে আপনি সাংবাদিকতা করতে পারবেন না। আমি ইত্তেফাকের কর্তৃপক্ষকে বলবো (উনারাও বিএনপি করেন)। আপনি ফ্যাসিস্টের দোসর। আপনাকে এখান থেকে বাদ দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের লোক দেওয়ার জন্য তাদেরকে বলবো। আমার সাথে চ্যালেঞ্জ করেন। অলরেডি আপনি ফ্যাসিস্টের দোসর। আমি আপনার সাথে মিটিং করবো কিনা (আই মিন ডাউট)। আপনি সরি বলেন। সরি বল্লে ছোট হয়ে যায় না। আমাদের অনেকের জীবনে অতীত থাকে। নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন জনি বক্তব্য দিতে চাইলে তাকেও থামিয়ে দেওয়া হয়।সবুজ পত্র সম্পাদক জামাল উদ্দিন স্বপন গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিউজ করায় সামছু উদ্দিন কালু, মালেক এবং ছাদেক হোসেনেরা তাকে দফায়-দফায় মারধর এবং তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের একাধিক মিথ্যা মামলা করা নিয়ে বক্তব্য দিতে চাইলে তাকেও কোন বক্তব্য না দিয়ে থামিয়ে দেন। মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এমপি আরও বলেন, আজ থেকে আমরা ভালো কিছু চিন্তা করি। তিনি নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব পুনর্গঠনের কথাও বলেন, তিনি বলেন, আমরা সব গ্রুপকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সংগঠন করব। সাংবাদিকতা করতে হলে কি কি যোগ্যতা লাগে তা নিয়ে প্রেসক্লাবের সদস্য করা হবে। যা আমার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে করা হবে। সেখানে আপনাদের সাংবাদিকদের লোকও থাকবে। প্রয়োজনে আমরা গঠনতন্ত্র বানাবো। অন্য জায়গা থেকে গঠণতন্ত্র হায়ার করে আনবো।এসময় সাংবাদিকরা কেউ কোন কথা বলতে চাইলে এমপি তাদেরকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেয়। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দেয় । সাংবাদিকরা কিছু বলার থাকলেও মান সন্মান ও ইজ্জতের কথা চিন্তা করে এবং এমপির সম্মান রক্ষার্থে কথা বলা বা প্রশ্ন করা থেকে বিরত ছিলেন । সাংবাদিকদের প্রতি একজন এমপির এমন ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ সাংবাদিক সমাজকে ব্যাথিত করেছে । সাংবাদিক সমাজ সরকার দলীয় এমপি ঔদ্ধত্ব আচরণের তীব্র নিন্দা জানান ।উল্লেখ্য, এখানে বিএনপি থেকে মনোনীত হন সাবেক সাংসদ আবদুল গফুর ভূঁইয়া । আইনের মারপ্যাঁচে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয় । অপরদিকে প্রতিক বিহীন প্রার্থী মোবাশ্বের ভূঁইয়া । প্রার্থী শূন্যতা দূর করতে শেষতক বিএনপি প্রতিক দেন তাকে । গফুর ভূঁইয়ার তৈরি মাঠে গোল দিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হন মোবাশ্বের। যাহা ঠাডা পড়ে বগা মরা কাহিনী । ফলে তিনি এখন ধরাকে সরাজ্ঞান করছে । তার উদ্ধত আচরণ বিএনপি জন্য বিষফোঁড়া হচ্ছে ।
প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা। মোবাইল: ০১৭১১৯৫০০৪০, ই-মেইল: sobujpotra.info@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত