প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
নাঙ্গলকোটে এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা, নেই বিএমডিসির নিবন্ধনা
নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি ||
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নিজেকে এমবিবিএসসহ বিভিন্ন উচ্চ ডিগ্রিধারী ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন মোঃ হাফিজুর রহমান নামে এক ব্যাক্তি। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কোনো নিবন্ধন নেই। ফলে তার চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে এবং জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, উপজেলার সরকারি হাসপাতাল রোডে অবস্থিত নিশাত মেডিকেল হল নামের একটি ফার্মেসিতে প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রোগী দেখেন তিনি। একই ফার্মেসিতে মোঃ মনির হোসেন নামে অপর এক ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রোগী দেখেন। তারা উভয়েই বিএমডিসির বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে নামের আগে ডা. শব্দ ব্যবহার করছেন এবং নিজেদের চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করছেন।দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন ছাড়া কেউ চিকিৎসা প্রদান করতে পারেন না। এ ধরনের কার্যক্রম আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।সরেজমিনে দেখা যায়, যেখানে হাফিজুর রহমান রোগী দেখেন, সেখানে তার চেম্বারের পাশাপাশি একটি প্রাইভেট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কার্যক্রম চলছে, যা তার সহযোগী মনির হোসেন পরিচালনা করেন। একই স্থানে নিপু ডেন্টাল কেয়ার নামে আরেকটি চেম্বারও রয়েছে, যার পরিচালকও মনির হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো নারী চিকিৎসক বা নার্স ছাড়াই মনির হোসেন নারী রোগীদের পাইলসসহ বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা দিয়ে থাকেন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।হাফিজুর রহমানের কাছে চিকিৎসা নেওয়া আবুল বাসার নামের এক রোগী বলেন, তাকে এমবিবিএস চিকিৎসক ভেবে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তার চিকিৎসা পদ্ধতি ও কথাবার্তায় সন্দেহ হয় এবং আমি সেখান থেকে চলে আসি।উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পাটোয়ার গ্রামের আনোয়ারা বেগম বলেন, গলার সমস্যার জন্য তার কাছে গেলে তিনি কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অপারেশনের কথা বলেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগী জানান, পাইলসের চিকিৎসা নিতে গেলে মনির হোসেন নিজের আমাকে দেখেন সেখানে কোন মহিলা ডাক্তার বা নার্স ছিল না।অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান স্বীকার করেন, তার বিএমডিসি নিবন্ধন নেই। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি এমবিবিএস ডাক্তার এবং হোমিওপ্যাথি বিষয়ে বিভিন্ন কোর্স ও ডিপ্লোমা করেছেন। এ কারণে তিনি নিজেকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে ডাক্তার লিখতে পারেন বলেও জানান। বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা দেওয়া বৈধ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে হাইকোর্টের একটি রিট রয়েছে।অন্যদিকে মনির হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নারী রোগীদের ক্ষেত্রে নারী চিকিৎসকের সহায়তা নেন। তবে চিকিৎসাপত্রে ব্যবহৃত Rx লেখার অর্থ জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়া কেউ চিকিৎসা দিতে পারেন না, যত বড় ডিগ্রিই থাকুক না কেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান সম্পাদক: জামাল উদ্দিন স্বপন, প্রধান সম্পাদক কর্তৃক শতরূপা প্রিন্টার্স, সালাম কমপ্লেক্স দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ৮২, বাইপাস সড়ক মধ্য লাকসাম, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৪, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন খান্দানি মার্কেট, লাকসাম, কুমিল্লা। মোবাইল: ০১৭১১৯৫০০৪০, ই-মেইল: sobujpotra.info@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ সবুজ পত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত